জামায়াতে ইসলামী এর ইতিহাস ও জন্মকথাঃ
পাকিস্তানের লাহোর শহরে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট তারিখ জামায়াতে ইসলামী এর প্রতিষ্ঠা। জামায়াতে ইসলামী এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী।
উপমহাদেশ প্রায় দুই শত বছর ব্রিটিশদের কাছে পরাধীন থাকবার পর ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত স্বাধীনতা পায়। ১৯৪৭ এর আগে মুসলমান অধ্যুষিত এলাকার প্রায় সবাই (৯০ ভাগ বাঙালী সহ) দেশ বিভাগ এবং মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান সৃষ্টি পক্ষে ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ছিল পাকিস্তান তত্ত্বের ঘোর বিরোধী। জন্মের শুরু থেকে জামায়াতে ইসলামী চলেছে উল্টো স্রোতে। মাওলানা মওদুদী এমন একজন ইসলামী দলের রাজনৈতিক প্রধান যিনি সর্বপ্রথম বলেছিলেন মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের কোন প্রয়োজন নাই। (১)
১৯৪৭ সালে পাকিস্থান জন্মের পর জামায়াতে ইসলামীঃ
পাকিস্তান জন্মের অল্প সময় পরেই জামায়াত হয়ে গেল চরম পাকিস্তান প্রেমিক। যেন গিরগিটী রঙ বদলানোর আরো একটি উদাহরণ। মাওলানা মওদুদী তার পার্টি জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করার জন্য ধর্মের নামে একাধিক দাঙ্গা লাগিয়েছেন । তার নির্দেশ এবং মদদে পাকিস্তানে হাজার হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে।
১৯৫৩ সালে মাওলানা মওদুদী তার বই “Qadiani Problem” তে আহমেদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করেন। তিনি পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো সরকারকে আহমেদিয়া সম্প্রদায়কে অমু্সলিম ঘোষণা করার জন্য চাপ দেন। মাওলানা মওদুদী সারা পশ্চিম পাকিস্তানে সুন্নি মুসলিম এবং আহমেদিয়া এর মাঝে রক্তাক্ত দাঙ্গা বাধিয়ে দেন। দুই হাজার আহমেদিয়া মারা যায় শুধু মাত্র পাঞ্জাব প্রদেশে। সারা দেশে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড জন্য তাকে পাকিস্তানের মিলিটারি কোর্ট মৃত্যুদন্ড দেয়। কিন্তু পরে সেটা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় এবং দুই বছর পড়ে তাকে ১৯৫৫ সালে জেল থেকে মুক্ত করা হয়। এত বড় গনহত্যার বীচ বপনকারী এবং উস্কানি দেওয়ার পড়ো এভাবে কোন শাস্তি না পেয়ে ছাড়া পেয়ে যাওয়া পৃথিবীর ইতিহাসের এক নজীর বিহীন ঘটনা।(২)
১৯৭০ -র সাধারণ পরিষদ নির্বাচন
পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন ০৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত হয়। কট্টর মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামী এর জন্য ছিল এটা একটা বিরাট পরীক্ষা। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এর চরম ভরাডুবি হয়। সারা পাকিস্তানে মোট ভোটের মাত্র ৪% পায়। জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে জামাত পাঞ্জাব প্রদেশে একটি, সিন্দ প্রদেশে দুটি, পেশাওয়ারে একটি আসন পায় সহ পায় মাত্র ৪টি আসন পায় ।
অপর দিকে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে পায় ১৬৭টি আসন। । জামায়াতে ইসলামী সারা পাকিস্তানের মোট ভোটারের ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ৭৫% জনগণ আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছিল। মাত্র ৬% জনগণ জামায়াতে ইসলামী কে ভোট দিয়েছিল। (৩)
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে দেবার পাঁয়তারা করল। বঙ্গবন্ধু সাত ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাংলার মানুষের সামনে গর্জে উঠলেন ‘ এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ’। সারা বাংলার ৭ কোটি মানুষ মুক্তি আন্দোলন ঝাঁপিয়ে পরল।
একজন মানুষ এই বাংলাকে কি পরিমাণ ভালবাসে নিজের পরিণতি নিশ্চিত মৃত্যুদন্ড জেনেও বাংলার কোটি কোটি জনগনকে মুক্তি উল্লাসে জাগিয়ে দিলেন । মাত্র ১১ মিনিট একটা বক্তৃতা মনে হই আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বক্তৃতা। পাকিস্তানি হানাদাররা ২৫শে মার্চ গনহত্যা করল ঢাকা শহর আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। পরের দিন চট্রগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধু অনুপুস্থিতিতে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করল।
১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী এর ভুমিকা
মার্চ মাস থেকে শুরু হল জামায়াতে ইসলামী আসল খেলা। তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী ( কুখ্যাত সাকা চৌধুরীর পিতা) পাকিস্তানী হানাদারদের সাহায্য করার জন্য প্রতিষ্ঠা করলেন শান্তি বাহিনী। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এর তাতে মন ভরল না। তারা চায় মানব ইতিহাসের সব থেকে বড় গন হত্যা । জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস্ প্রভৃতি বাহিনী গড়ে তোলেন। এরা পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে কাজ করে।
বর্তমান জামাতের অনেক শীর্ষ নেতা ছিল রাজাকার। ৩০ জুন লাহোরে সাংবাদিকদের কাছে গোলাম আযম বলেন, "তাঁর দল পূর্ব পাকিস্তানে দুস্কৃতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) তৎপরতা দমন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে এবং এ কারনেই দুস্কৃতকারীদের হাতে বহু জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে”। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি দলিলে সন্নিবেশিত তথ্য অনুযায়ী ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সব রকমের সহযোগিতা করতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দলীয় নেতাকর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন নিজামী। তাদের দালালি তথ্য প্রমাণ সেই সময়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এসেছে। এই নিজামী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হবার পর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরকে ভারতীয় হানাদার এবং ভারতীয় এজেন্ট বলে আখ্যায়িত করেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধে সব রাজাকার সেই সময় কোন না কোন সুবিধা নিয়েছে। তাদের ছিল সবুজ চাঁন তারা। মুখে পাকসারজমিনবাদ। রাজাকার- আল বদরদের মূল কাজ ছিল বের করা এলাকার কোন কোন বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে আছে, কার টাকা পয়সা আছে, এলাকার কোন কোন বাড়িতে হিন্দু থাকে, কোন বাড়ির ছেলে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছে, তালিকা করা আর পাকিস্তানী সেনাদের খবর দেওয়া। মুক্তিযুদ্ধে তীব্র হলে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী এই সব রাজাকারদের বাঙ্গালী নিধন জন্য দিয়েছে থ্রি নট থ্রি রাইফেল। লুঙ্গি উপর খাঁকি ইউনিফর্ম পরে তারা পাকি হানাদারদের জন্য সব ধরনের সহায়তা করত।
এরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমাদের মা বোনকে ধরে পাকিস্থানী ভোগের জন্য ব্যাঙ্কারে নিয়ে আসত। পাকি সেনারা ফুর্তি করত, তারা বাইরে পাহারা দেয়- আর অপেক্ষায় থাকে যদি তাদের একটু ঝুটা জুটে। হাজার হোক মালে গনিমত! শত্রু সম্পত্তি নাকি ইসলামে জায়েজ আছে! লাখ লাখ বাঙ্গালী বীরাঙ্গনা তাদের দালালিতে সম্ভ্রম হারিয়েছেন। লাখ খানেক যুদ্ধশিশুকে মুক্তিযুদ্ধের পর বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তাদের অনেকেই ফিরে এখন মাকে খোঁজে। কিন্তু কে স্বীকার করবে সেই অপমান! (৪)(৫)
স্বাধীন বাংলাদেশ
৩০ লাখ মুক্তিসেনার রক্তে ১০ লাখ বীরাঙ্গনা চোখের জলে প্রতিবেশী দেশ ভারতীয় সহায়তায় অবশেষে আমরা পেলাম বাংলাদেশ। ১০ ই জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে ফিরে এলেন। আমাদের পূর্ব পুরুষদের চোখে তখন কত স্বপ্ন। মুক্ত বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশ। আমাদের নিজের একটা দেশ। ৩০ নভেম্বর ৭৩ সালে কুখ্যাত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা আগে মাত্র একজন রাজাকারে ফাঁসি হয়।
একাত্তরের পর জামাতদের গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী সহ অনেক নেতা এর পর প্রাণ ভয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যায়।
স্বাধীন বাংলাদেশে জামাতের জন্ম
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ ছিল। ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান সংবিধান সংশোধন এনে ছাড়পত্র দিলেন আইডিএফকে। ইসলামীক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের ব্যানারে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীনতা বিরোধিতারা একে একে আত্মপ্রকাশ করল। গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী, আব্বাস আলী খান মিলে প্রতিষ্ঠা করল বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী।
স্বাধীনতার পর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মুক্তিযোদ্ধা জিয়া ক্ষমতা মোহে পড়ে কত পরিবর্তন হয়ে গেলেন। যেই খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে পাক বাহিনী হেফাজতে ছিলেন বলে তাকে ঘরে তুলতে জোর আপত্তি ছিল মেজর জিয়ার। জিয়াউর রহমান একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তারপর তার গোঁড়ামি জন্য একজন বীরাঙ্গনাকে সংসারে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিজের মেয়ে বলে চাপ দিয়ে জিয়ার মত বদলান। অথচ সেই মুক্তিযোদ্ধা জিয়াই জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা বিরোধী জামাতকে মেনে নিতে পারে নাই। গোলাম আজম নামাজ পড়তে গেলে বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের জুতাপেটা খান, মতিউর রহমান নিজামীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুতাপেটা খান, জাহাঙ্গিরনগরে থু থু খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রসংঘ (পরবর্তীতে ছাত্র শিবির) কর্মী পেলে অপরাজেয় বাংলার সামনে কানে ধরে উঠবস করতে বাধ্য করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বছর প্রকাশ্য মিছিল করতে পারে নি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাতের ক্রমবিকাশ
আমাদের দেশে চরম ডান জামাতে ইসলামী বা চরম বাম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা তাদের সমমনা দলগুলোর মধ্যে একটা দারুণ মিল আছে। চরম বাম আর ডান দলগুলো খুবই সুশৃঙ্খল এবং সংগঠিত হয়, সেই সঙ্গে আদর্শের ব্যাপারে আপোষহীন। এরা একটা নির্দিষ্ট আদর্শে বিশ্বাস করে থাকে সে থেকে এরা এক চুলও নড়ে না। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বা জাতীয় পার্টির মতো দলগুলো নেতারা যেমন সুবিধা পাবার জন্য নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে অবলীলা ফুলের মালা নিয়ে অন্য দলে যোগ দিতে পারে। জামাত থেকে তা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি একবার জামাতে ইসলামী নেতা বনে যায় সে তার বাকি জীবন জামাতের নেতা হয়েই থাকবে। এ কারণেই তাদের কর্মী, সমর্থক একেবারে অঙ্কের মতো হিসেব করা- এক চুলও এদিক ওদিক হয় না।
বাংলাদেশে প্রথম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতে ইসলামী এর দিন দিন ক্রমবৃদ্ধি রীতিমত আশঙ্কাজনক। ১৯৮৬ সালে জামাতে ইসলামী একটি ছোট দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু তারপরও জামাত ৮৬ সালে ১০টি আসন পেয়ে সবাইকে চমকে দেয়। ৯১ সালের নির্বাচনে জামাতে ইসলামী পায় ১৮টি আসন।
নব্বই দশকের মাঝা মাঝি পর্যন্ত জামাতে ইসলামী আমির গোলাম আযম ছিল পাকিস্তানের নাগরিক। তারপরো গোলাম আযম স্বাধীন বাংলাদেশের একটি রাজনৈতীক দল জামাতে ইসলামী এর কর্নধার ছিলেন। ভিন দেশী পাসপোর্ট নিয়ে অন্য আরেকটি দেশের রাজনৈতীক দলের প্রধান। জামাত বিশ্বের অনন্য নজ়ীর স্থাপন করেছেন।
জনতার আদালত এবং গোলাম আজম
খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তিনি জামাতের অসত রাজনীতি, রাজনীতিবিদ ও তোষামোদকারীদের দু হাত তুলে সাহায্য করলেন। গোলাম আজম এর নাগরিকতা দিলেন ১৯৯৪ সালে। যখন সারা দেশ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে উনি পুলিস বাহিনী দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের লাঠি চার্য করালেন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি জনতার মঞ্চ থেকে প্রথম বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের কথা বললেন। খালেদা জিয়া তার সকল শক্তি দিয়ে জামাতের পাসে এসে দাঁড়ালেন। সাধারণ মানুষ যেন জনতার মঞ্চে যেতে না পারে তাই পথে পথে বাধা দিলেন। সেই সময় বাংলাদেশে এত টিভি চ্যানেল ছিল না। ছিল মাত্র বিটিভি। সেখানে উত্তম সুচিত্রা অভিনীত ‘পথে হল দেরি’ বাংলা ছবি দেখালেন । কিন্তু পথে দেরি হয় নি। লাখ লাখ মানুষ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার আদালতে গোলাম আজম এর ফাঁসী রায় দিয়ে ছিল।
ইসলামী ছাত্র শিবিরের কুকর্ম
জামাতের ছাত্র সংগঠন হচ্ছে ইসলামী ছাত্র শিবির। জামাত ছাত্র শিবির ইসলামের দোহাই দিয়ে আর মুখোশ পড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের ক্যাডারদের ঢোকাচ্ছে তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় । এখানে শিবিরের সন্ত্রাসের চিত্র পত্রিকা খুললেই দেখা যাবে।
তার পাশাপাশি পরিকল্পিত ভাবে এখানে জামাত শিবিরের ক্যাডারের শিক্ষকরা স্থান করে নিচ্ছে। ছাত্র শিবির অত্যাচারে ছাত্রদলও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিল করে। ছাত্র শিবির আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে আমাদের ক্যাম্পাস রগকাটার নানা রকম টেকনিক বের করছে। তাদের রগ কাটার অনেকগুলো লোমহর্ষ ঘটনা আমরা জানি । শিবির আমাদের চট্রগ্রাম চট্রগ্রাম কলেজ আর হাজি মোহাম্মদ মহসিন কলেজ দখল করে রেখেছে। সিটি কলেজ আর কমার্স কলেজ দখল করার পায়তারা চলছে ।
চার-দলীয় ঐক্য জোট গঠন
জামায়াতে ইসলামী হলো সুযোগ সন্ধানী। তারা সুযোগের ব্যবহার করবে এটা স্বাভাবিক একটি ঘটনা। জামায়াতে ইসলামী তাই ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ঐক্য জোট মিলিত হয়ে চার-দলীয় ঐক্য জোট গঠন করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি- জামাত জ়োট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে নির্বাচিত হয়। ১৯৯৬ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মাত্র ৩টি আসনে জয়লাভ করলেও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন লাভ করে। বাংলাদেশ সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে তাদের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি দেশ হবার মাত্র এক দশক যেতে না যেতে দেশের শাসন ভার গ্রহণ করে।
চার দলের সরকারে জামায়াতে ইসলামী আমির মতিউর রহমান নিজামী পায় শিল্পমন্ত্রী , আলি আহসান মুজাহিদ পান সমাজকল্যান মন্ত্রী। এই দুই মন্ত্রী সরকারী গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে চলত। বুকের রক্ত দিয়ে অর্জন করা লাল সবুজ পতাকার কি অপমান । এই পতাকা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতেও তাদের হাত এতটুকু কাঁপবে না।
বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ সৃষ্টিতে জামাতের ভূমিকা
বাংলাদেশে ইসলামের নামে প্রকাশ্যে জঙ্গিবাদের সুরু ২০০৩ সাল থেকে। জামায়াতে ইসলামী ছাএ সংগঠন তৈরি করছে ভবিষ্যত জেহাদী। সারাদেশে এক যোগে বোমা হামলা চালিয়ে শোর ফেলে দেওয়া তথাকথিত ইসলামপন্থী দলগুলো যেমন জেএমবি নিঃসন্দেহে এ তালিকায় ওপরে। কিন্তু বেশ কজন জঙ্গী ধরা পড়ার পর 'আগে শিবির বা জামাত করতাম' জাতীয় স্বীকারোক্তি দেওয়ায় এটা মোটামুটি পরিষ্কার জামাত-শিবির তাদের ক্যাডার বাহিনী আর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত করেছে।
সিলেটের মাজারে কারা বোমা মারছে? আমাদের দেশে কারা মাজার দেখতে পারে না ? রমনার বটমুলে কারা বোমা মারছে? কারা আমাদের বাংলা নববর্ষ পালন করার সাংষ্কতি পছন্দ করে না? উদীচী কারা দেখতে পারে না? শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে করে কারা বোমা মেরেছে? আইভি রহমান, শাহ এস এম কিবরিয়া, আহসানুল্লাহ মাস্টারদের কে হত্যা করছে? বাংলাদেশে কারা আওয়ামী লীগকে দেখতে পারে না? এর প্রতিটা উত্তর নিজের বিবেকের কাছে করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়।
জামায়াতে ইসলামী চার দলের ঘাড়ে চড়ে ধর্মের নামে সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে মস্তিস্কবিহীন জলহস্তীদের উপলদ্ধি করার সময় হয়তো এখনও হয়নি।
২৮শে অক্টোবর সেই দিন
২৮ ই অক্টোবর ২০০৬ হল মুক্তাঙ্গনে জামাত আর ১৪ দলের মধ্য কি হয়েছে এটা ত আমরা সবাই জানি। অনেক আগে ১৪ দলের ডাকা সমাবেশের একই দিনে, একই সময়ে,একই পল্টন ময়দানে জামাত কেন সমাবেশ দিল? সেদিন সকালে তারা রাস্তার মোড়ে, মোড়ে অস্ত্র, বন্দুক নিয়ে কেন অবস্থান নিল? কীভাবে বন্দুক নিয়ে গুলি করা হল। শিবির নেতার সেই চিৎকার করে বলা ‘বন্ধুরা তোমরা বৃষ্টির মত গুলি বষর্ন কর, তোমরা মরলে শহিদ বাঁচলে গাজী “। জামাত সেদিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম দখল করে সেখান থেকে নিরীহ মানুষদের গুলি করে হত্যা করেছে। সাধারণ মুসুল্লিদের নামাজ পরতে দেয় নাই। ইমামকে আজান দিতে দেয় নাই। এদের আসল কাজ হল কীভাবে ইসলামকে ছোট করা যায়। এরাই তারা যারা একাত্তুরে মসজিদে ঢুকে পবিএ কোরান শরিফ পরা অবস্থায় মুসল্লিদের গুলি করে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে।
জামায়াতে ইসলামী এর স্পর্ধা
জামাতিদের এত বড় সাহস যে তারা কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক , শাহবিয়ার কবির বা মহাম্মদ জাফর ইকবালদের মত মানুষদের মুরতাদ ঘোষণা করেন। ওদের বিরুদ্ধে কিছু বললে মুরতাদ আর তাদের সাপোর্ট করলে সাচ্চা মুসলমান।
আজ ৩৭ বছর পরেও জামায়াতে ইসলামী কখনো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং গনহত্যা করার জন্য ক্ষমা চায় নি। ২৫ অক্টোবর ২০০৭ জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ সাংবাদিকদের বলেন “বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই, এটা কল্পনা প্রসূত, বানোয়াট, উদ্ভট চিন্তা”
আসন্ন ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামাত
বিশ্বের প্রথম ভাষাভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ রাস্ট্রব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ করলেও আজ ধর্মভিত্তিক অপশক্তির কাছে হার মেনেছে এর থেকে দুঃখকর অপমান আর কি আছে?
আসন্ন নির্বাচনের জামায়াতে ইসলামী দেশের ৪০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। এরা হলেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী (পাবনা-১), সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (ফরিদপুর-৩), মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (শেরপুর-১), এ টি এম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২), মাওলানা মোহাম্মদ সুবহান (পাবনা-৫), মীর কাসেম আলী (ঢাকা ৮), দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (পিরোজপুর-১), আবু সালেহ মোহাম্মদ আবদুল আজিজ মিয়া (গাইবান্ধা-১), মোহাম্মদ আবদুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), এম রিয়াসত আলী বিশ্বাস (সাতক্ষীরা-৩), শাহ্ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস (খুলনা-৬), মাওলানা আবদুল হাকিম। (ঠাকুরগাঁও-২), মাওলানা হাবিবুর রহমান (চুয়াডাঙ্গা-২), ফরিদউদ্দিন চৌধুরী (সিলেট-৫), হাবীবুর রহমান (সিলেট-৬) এবং এনামুল হক মঞ্জু (কক্সবাজার-১)। এরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত। (৬)
আসুন এই মহান বিজয় মাসে আমরা আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াতে ইসলামী প্রতিহত করি। দেশের যে কয়টি আসনে তারা নির্বাচনে লড়ছে সেখানেই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করার জন্য যে যার অবস্থান থেকে কাজ করি। যেখানেই জামাত সেখানেই লড়াই।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই
যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী একই সাথে আমার মায়ের খুনী এবং হত্যাকারী। যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা আমার কাছে স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে স্বাধীন দেশটার সাথে বেঈমানী করার মতো। আমরা এই প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।
জামাতের কাছে জানতে চাই ইসলামে কোথায় হত্যা, ধর্ষণ উৎসাহিত করা হয়েছে। সেরা ধর্মে জন্ম নিয়ে জামাতীরা ইসলামকে বদনাম করল। আল্লাহ সারা দুনিয়া শ্রেষ্ঠ প্রাণী করে আমাদের পাঠাল কিন্তু জামাতিরা সেই জীব মানুষ না পশু আমার জানতে ইচ্ছা করে।
ক্ষমা করে মানুষ নাকি মহানুভব হয়। ওদের অনেকের নাকি এদেশী জন্ম । ভুল ত মানুষই করে। আমি এই সব সস্তা কথা আমি মানি না। ক্ষমা মহান গুন হতে পারে, কিন্তু সবাইকে এবং সব অপরাধী ক্ষমা করা যায় না।
যে আমার সাথে বেইমানি করে তাকে আমি হয়ত দুই দিন পরে মাপ করে দিতে পারব কিন্তু যে আমার আমার দেশের সাথে বেইমানি করে করে , যে আমার মায়ের সম্ভ্রমহানি করে, যে আমার ভায়ের রক্তে তার দুই হাত রঙ্গিন করে , যে আমার বোনের শাড়ি ধরে টান দেয়, তাদের কোন মাপ নাই। এই দুনিয়ার মানুষেরা তাদের ক্ষমা করে দিলেও আল্লাহ তাদের কোন দিন যেন ক্ষমা না করেন।
তথ্যসূত্র
(১) http://en.wikipedia.org/wiki/Sayyid_Abul_Ala_Maududi
(২) http://en.wikipedia.org/wiki/Jamaat-e-Islami
(৩) http://en.wikipedia.org/wiki/Pakistani_general_election,_1970
(৪) অমি রহমান পিয়াল এর ব্লগ http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog
(৫) http://www.genocidebangladesh.org/
(৬) দৈনিক প্রথম আলো ডিসেম্বর ০৬, ২০০৮

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
দুঃসহ এ বেদনার কণ্টক পথ বেয়ে
শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
যুগের নিষ্ঠুর বন্ধন হতে
মুক্তির এ বারতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।
কৃষাণ-কৃষাণীর গানে গানে
পদ্মা-মেঘনার কলতানে
বাউলের একতারাতে
আনন্দ ঝংকারে
তোমাদের নাম ঝংকৃত হবে।
নতুন স্বদেশ গড়ার পথে
তোমরা চিরদিন দিশারী রবে।
আমরা তোমাদের ভুলব না।
বাংলা ভাষায় লিখিত সর্বশেষ্ঠ এই গানটি লিখেছেন শ্রদ্ধেয় গোবিন্দ হালদার। তিনি ভারতের আকাশবানী বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার ছিলেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারে সম্প্রচারিত তার লেখা গানসমূহ মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রচিত উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, লেফট রাইট লেফট রাইট, হুশিয়ার হুশিয়ার, পদ্মা মেঘনা যমুনা, চলো বীর সৈনিক, হুশিয়ার, হুশিয়ার বাংলার মাটি অন্যতম।
আয়কর বিভাগে কর্মরত অবস্থায় বন্ধু কামাল আহমেদের অনুপ্রেরণায় এবং উৎসাহে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর গান রচনা করেন। কামাল আহমেদ তাকে স্বাধীন বাংলা বেতারের কর্ণধার কামাল লোহানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তার হাতে ১৫টি গানের একটি খাতা দেন। এ গান গুলোর মধ্যে স্বাধীন বেতারে প্রথম প্রচারিত হয় সমর দাসের সুরারোপিত পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে গানটি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই তার আরও কিছু গান স্বাধীন বেতারে সম্প্রচারিত হয়।
পাক বাহিনী আত্মসমর্থনের খবর পাওয়ার পর পর ই সন্ধায় ১৬ ই ডিসেম্বর প্রচারিত হয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে গানটি যা সুর দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ এবং মূল কণ্ঠ দিয়েছিলেন স্বপ্না রায় আরও কণ্ঠ দিয়েছিলেন আপেল মাহমুদ এবং সহশিল্পীরা।
কামাল আহমেদের লেখা গোবিন্দ হালদারঃ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে গানের অমর স্রষ্টা পড়তে পারেন। এই গানটির অনেক আজানা ইতিহাস জানতে পারবেন।
ক্লোজআপ তোমাকেই খুজছে বাংলাদেশ ২০০৮ এ লিজার গাওয়া এই গানটির ইউটিউব ভিডিও দেখতে পারেন।
স্বপ্না রায় এর কোরাসে গাওয়া গানটি এখানে শুনতে পারেন।
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ফ্লিকার থেকে নেওয়া।
তথ্য সুত্রঃ উকিপেডিয়া

ছুটির দিন, অলস দুপুর। বৃষ্টি দেখতে দেখতে গরম চা খাচ্ছি। খোলা জানালা দিয়ে বৃষ্টির পানি ছিটা এসে লাগে। ছিটাছিটি ফোঁটাগুলো আমার টেবিল, ল্যাপটপ, এলোমেলো বইপত্র ভিজিয়ে দিচ্ছে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দেখলেই কেমন জানি আনমনা হয়ে যাই।
বৃষ্টি-বাদল দিনে আমাদের বাসা থেকে থেকে ইয়ারা নদী দেখতে খুব সুন্দর লাগে। ইয়ারা নদী সর্পিল ভাবে মেলবোর্ন শহরের উপর দিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বে বয়ে গিয়ে পোর্ট ফিলিপ সাগরে পরেছে।
এখন আইপডে একটা হালের হিন্দি গান শুনছি। “ রাব নে বানা দি জরি ” ছবির এই গানটা বেশ পছন্দ হয়েছে।
পেয়ার হুয়া
ইকরার হুয়া
জিনা ইয়া হা
মারনা ইয়া হা
ইন বাহো কো
ইন রাহো কো
ছোর এ ছালিয়া
যায়ে কাহা...
মানা দিল তো হ্যায় আনারি
এ আওয়ারা হি সাহি
আরে বোল রাধা বোল
সংগম হোগা কে নেহি
হার জানাম মে রাং বাদালকে
খাবকে পারদপে হাম খিলতে
হাম হে রাহি পেয়ার কে
ফির মিলেঙ্গে চালতে চালতে
গত কয়েক দিন ধরে ভিক্টোরিয়া স্টেটে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এখানে হঠাৎ ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয় কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আবার থেমে যায়। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবার নামে। দূর! বৃষ্টি-বাদলেও আজকাল কেমন যেন ভেজাল, দুই নম্বরী। পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর বৃষ্টি হয় বাংলাদেশে। আহা! কি সুন্দর ঝুমঝুম বৃষ্টি।
এখানে লোকজন বৃষ্টি একদম পছন্দ করে না। লন্ড্রী রুমে আমাকে দেখে পাশের বাসার বুড়ি নাক সিট্কে বলল, “দেখছ? কি বাজে আবহাওয়া।” আমিও তার সাথে গলা মেলালাম। আহত গলায় বলি, “আসলেই খুব জঘন্য আবহাওয়া।” সীড়িতে স্বর্ণাকেশী স্টেসি বলল, “ উফ! বাহিরে কি বৃষ্টি, আজ ভেবেছিলাম ওকে নিয়ে একটু বাহিরে হাঁটব, তুমি কি দেখেছ বাড়িতে থাকতে থাকতে থাকতে বেচারী্র চর্বি জমে গেছে।” আমিও ওর পিচ্চি তুলতুলে সাদা কুকুরের দিকে তাকিয়ে বলি, “আহারে! আসলেই ত।”
কিন্তু আমার মনে আজ অনেক ফুর্তি। আহারে কি আনন্দ! কি সৌন্দর্য, বৃষ্টি হচ্ছে। আজ সব কিছু ভেসে যাক। বান ডাকুক ইয়ারা নদীতে...
দিল কা ভাওয়ার কারে
কারে পুকার যাব
পেয়ার কিসি সে হোতা হ্যায়
জিয়্যা ওহ জিয়্যা কুছ বোল দো
আব দারদ সা দিল মে হোতা হ্যায়
ও তেরে ঘরকে সামনে
এক ঘর বানাউনগা টুটা হি স্যাহি
পাল ভার কে লিয়ে কোই হামে পেয়ার কারলে
ঝুটা হি সাহি
ঝুটা হি সাহি
হার জানাম মে রাং বাদালকে
খ্যাবকে পারদপে হাম খিলতে
হাম হে রাহি পেয়ার কে
ফির মিলেঙ্গে চালতে চালতে
হাম হে রাহি পেয়ার কে
ফির মিলেঙ্গে চালতে চালতে
গত রাতে মেলবোর্ণ সেন্ট্রালে প্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খানের নতুন ছবি এর প্রিমিয়ার শো দেখে বাসায় ফির ছিলাম। মাল্টিপ্লেক্স থেকে বের হয়েই দেখি প্রচণ্ড বৃষ্টি। স্টেট লাইব্রেরীর সামনে ট্রামে উঠবার পর মনে হল বৃষ্টি বোধ হয় একটু কমতি দিকে । বোটানিকাল গার্ডেন আসতে আসতেই দেখি আবার আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি পড়ছে। রাত দেড়টা বাজে। আসে পাশে কোন কফি শপও খোলা নেই যে বসে বসে গরম গরম সয় মিল্ক ক্যাপাচিনো বা কফি ল্যাটে পান করতে করতে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করব। আশে পাশে কোন ছাঊনিও খুঁজে পেলাম না। কি আর করা । জিন্স হাঁটু অবধি গুটিয়ে নিলাম। শার্ট খুলে কোমরে শক্ত করে বাধলাম। ধুমিয়ে একটা দৌড় দিলাম ।
ওহ হাসিনা
জুলফ ওয়ালি
জানে জাহা
চাহে মুজক
জাংলি কেহ দে
সারা জাহা
ওহ মেহফিল মেহফিল তু খিলে
ইয়াহু ইয়াহু দিল কারে
বদনপে সিতারে লেপ্তে হুয়ে
হার জানাম মে রাং বাদালকে
খাবকে পারদপে হাম খিলতে
হাম হে রাহি পেয়ার কে
ফির মিলেঙ্গে চালতে চালতে
হাম হে রাহি পেয়ার কে
ফির মিলেঙ্গে চালতে চালতে
ঝড়-বৃষ্টির রাতে রাস্তার মাঝখানে একজন জগিং করতে করতে যাচ্ছে এই ফাজলামী অনেক বেরসিক গাড়ি চালকের পছন্দ হল না। আবাসিক এলাকা তারপরও কয়েক জন হালকার উপর পাতলা হর্ন দিয়ে আমার পাগলামীর তীব্র প্রতিবাদ জানাল। একজন ট্যাক্সি চালক গতি কমিয়ে গ্লাস নামিয়ে বলল “ ইউ অলরাইট মাইট”। আমি বললাম, “ আই এম ওকে মাইট, তুই তোর রাস্তা মাপ”। ভাড়া পাবার আশা নেই দেখে সেও একটু হতাশ হয়ে তুরাগ রোডের দিকে টার্ন নিয়ে চলে গেল। ভিজে ভিজে জবজব হয়ে বাসায় আসলাম।
দারদ দে দিল
কার দে জিগার
জামানা কো দিখানা হ্যায়
হ্যাম কিসি সে কাম ন্যাহি
তুজক ইয় বাতানা হ্যায়
ইয়েজ ওয়াদা রাহা ওহ মেরি ছাঁদনি
হার জানাম মে রাং বাদালকে
খাবকে পারদপে হাম খিলতে
হাম হে রাহি পেয়ার কে
ফির মিলেঙ্গে চালতে চালতে
হাম হে রাহি পেয়ার কে
ফির মিলেঙ্গে চালতে চালতে
বৃষ্টিতে ভিজলে এখন আমার ঠাণ্ডা লাগে না। সর্দি কাশিও হয় না। শৈশবের একটা কথা বলি। আমি আর আমার দিদি তখন নন্দন কানন ফুলকি স্কুলে পড়তাম। হয়ত চতুর্থ শ্রেণি পড়ি। দুপুরে মায়ের ক্লাস থাকলে বাসায় নেবার জন্য বাবা স্কুলে আসত। কিন্তু প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণেই হোক বা অন্য কারণেই হোক সেই দিন কোন রিকশা পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরা আবদার করলাম আজ বৃষ্টিতে ভিজব। বাবা প্রথমে রাজি না হলেও পারে আমার বোনের কান্না থামাতে রাজি হয়ে গেল। আনন্দের লাফাতে লাফাতে ছোট বোন বলল, “কি মজা, কি মজা, আজ বিষতিতে দোছল কলবো।”
ফুলকি স্কুল থেকে লাভ লেইন বেশি দূরে না। কাকভেজা হয়ে বাসায় এসেই আমি আর আমার বোন ঠান্ডায় কাঁপুনি দিচ্ছি। ঘন ঘন হাঁচি দিতে লাগলাম। বাবা বুঝল সে একটা ভালো রকম ঝামেলা পাকিয়ে ফেলেছে।
টাওয়েল দিয়ে আমাদের মাথা মুছতে মুছতে বাবা বলল, “ মা, বেশি শীত করতাছে?”
ছোট বোন আস্তে আস্তে মাথা নেড়ে বলল, “ না”
“মা, বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে ভিজতে ঠাণ্ডা লাগে না। বরং বৃষ্টিতে ভিজলে আল্লার কাছে কিছু চাইলে সেটা পাওয়া যায়।”
বোকা বোন প্রশ্ন করে,“কবে পাওয়া যায়?’
বাবা একটু চিন্তা করে বললেন, “ ঈদের আগের রাতে পাওয়া যায়।”
“ যা চাব তাই পাব।“
“ অবশ্যই”
ছোট বোন হাত তালি দিয়ে বলল, “পেঙ্গুইন খেলনা চাইলে সেটা পাব।”
বাবা বলল, “ অবশ্যই, পেঙ্গুইন খেলনাও পাওয়া যাবে।”
আমি আর আমার বোন কিছু দিন আগে বাবা মার সাথে একজন কাস্টম অফিসারের বাসায় গিয়ে ছিলাম। সেখানে আমাদের সম বয়সী তার মেয়ের একটা খেলনা আমার বোনের খুব পছন্দ হয়েছিল। আমার যতদূর মনে পড়ে খেলনাটি ছিল কিছু ছোট ছোট পেঙ্গুইন। ব্যাটারি চালিত সিঁড়ী দিয়ে একবার পেঙ্গুইন উপরে উঠত আবার নিচে নামত। সাথে এক ধরনের মিউজিক বাজত। নিউ মার্কেটে পরে খেলনাটা খুঁজে পাওয়া গিয়ে ছিল। সেই আমলে ৩০০ টাকা অনেক টাকা। একজন মধ্যবিত্ত সাংবাদিক পরিবারের এত দামী খেলনা কেনার সামর্থ্য ছিল না।
বৃষ্টি স্নান আমরা মায়ের কাছ থেকে সিক্রেট রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শত চেষ্টার পরো কীভাবে মা সিটি কলেজ থেকে আসতেই পাঁচ মিনিটে আমাদের সিক্রেট জেনে গেল। আসলে ভাগ্য আমাদের সাথে ছিল না। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে ভিজতে ঠাণ্ডা লাগে না বাবার সেই থিসিস ভুল প্রমাণ করেই আমার বোনের জ্বর এল। । মা বাবাকে আচ্ছা মত বকা দিল। পরের কয়েক দিন বাবা বসার ঘরের সোফায় ঘুমিয়েছিল। ইস্! মা খালি বাবাকে বকত।
হাম হে রাহি পেয়ার কে
ফির মিলেঙ্গে চালতে চালতে
এক গ্রামে একজন পরিশ্রমী মানুষের কাছে দুটি বড় কলসী ছিল। সেই ব্যক্তি প্রতিদিন কলসী দুটো একটি শক্ত লাঠির দুটি আলাদা আলাদা প্রান্তে বেধে কাঁধে তুলে পানি বহন করত। একটি কলসীতে একটু ফাটল ছিল, নদী থেকে বাড়িতে আসার লম্বা পথে ফাটল ধরা কলসীর ফুটো দিয়ে চুয়ে চুয়ে জল পড়ত । বাড়ি আসতে আসতে অর্ধেক কলসী খালি হয়ে যেত। অন্য দিকে অপর কলসী ছিল একদম অক্ষত এবং সব সময় পূর্ণ জল বহন করত।
প্রায় দুই বছর ধরে এই ভাবেই বাহক প্রতিদিন তার বাসায় দেড় কলসী জল আনে। এই নিয়ে নিখুঁত কলসী খুব গর্ব। সে ভাঙ্গা কলসী দিকে ব্যঙ্গ করে বলে, “ দেখ আমাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে আমি তা যথাযথ পালন করতে পেরেছি। আমার জন্ম সার্থক।”
অন্য দিকে অসহায় ফাটল ধরা কলসী ভাবে তার জন্ম যে উদ্দেশে নিয়ে হয়েছিল আমি তার অর্ধেক কাজ করতে পেরেছি। দুর্ভাগা কলসী দুই বছর ধরে প্রতিদিন নিজের ত্রুটিবিচ্যুতি জন্য ভাগ্যকে দোষারোপ করল।
একদিন সে তার মালিকের সাথে কথা বলল, “আমি নিজেকে নিয়ে খুব লজ্জিত। আমার কলসী মাঝখান একটা ছোট ছিদ্র আছে। সেখান থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। বাসায় আসার আগেই আমি অর্ধেক খালি হয়ে যাচ্ছি । আমি তোমার কাছে ক্ষমাকারী।”
মালিক তখন বলল, “ তুমি কি খেয়াল কর নি, রাস্তার এক পাশে ফুল গাছের সারি , আর অন্য পাশে কোন ফুল গাছ নেই। ফুল গাছ শুধু মাত্র রাস্তার সেই পাশে যেখান দিয়ে রোজ তুমি আস। এর কারণ আমি সব সময় তোমার ফাটলের কথা জানতাম। তাই আমি যে দিকে তোমার বহন করি সেই দিকের পুরো রাস্তায় ফুলের বীচি বপন করেছি। আমরা প্রতিদিন যখন বাসায় আসি তুমি ফুল গাছগুলোকে পানি দাও। গত দুই বছরে আমি এই ফুল দিয়ে আমার টেবিল সাজিয়েছি। তুমি এখন যা আছ, যেভাবে আছ, এই আমার পছন্দ । তোমার এই অসম্পূর্ণতা না থাকলে আমার বাসা, আমার পরিবার এই সৌন্দর্য থেকে বাঞ্ছিত হত। ”
ঠিক একই ভাবে আমরা সবার একে অপরের থেকে ভিন্ন। কাউকে হয়ত আমাদের সফল বা কাউকে ব্যর্থ মনে হতে পারে। প্রতিটা মানুষ যে যেভাবে তাকে কি সেভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়? প্রতিটা মানুষের মাঝেই যেমন খারাপ দিক আছে তেমনি অনেক ভালো দিকও আছে। এই ভালো- মন্দ , সুখ-কষ্ট, প্রাপ্তি- অপ্রাপ্তি এই সব কিছু মিলে মিশে কিন্তু আমাদের জীবনকে সুন্দর এবং উপভোগ্য করে।
আশি দশকের শুরুতে কোন এক গ্রীষ্মকাল। চাপা উত্তেজনা চলছিল স্বর্গলোক “ মানুষ সৃষ্টি ল্যাবরেটরিতে ” । “প্রো-অমি গ্রুপ” এর পক্ষ থেকে স্বর্গের জাতীয় সংসদ ভবনে “একটি নিখুঁত আদম সন্তান জন্ম দেওয়ার বিল পাশের জন্য প্রস্তাবনা করা হল। কিন্তু সংসদের বিরোধী দল “এন্টি অমি গ্রুপ” এর সকল দুষ্ট দেবতা এই বিলের এর চরম বিরোধিতা করল। “মাননীয় সংসদ, ভূমন্ডলে আমরা যতই অর্থ ব্যয় করি না কেন, সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রচেষ্টা করি না কেন নিখুঁত আদম সন্তান জন্ম দেওয়া কখনই সম্ভব না।”
দীর্ঘ দিবা দীর্ঘ রজনী অনেক তর্ক-বিতর্ক, একাধিক ওয়াকআউট, উত্তপ্ত আলোচনা পরে অবশেষে ঈশ্বর বিল পাশে সম্মত হল। ঈশ্বর জরুরী ভিত্তিতে বিশ্বকর্মাকে ডাক দিলেন। “ হে বিশ্বকর্মা, আমি এই শিশুর জন্য আমি ভুতলের সব থেকে সর্বৎকৃষ্ট দেশ , সব থেকে মধুর ভাষা এবং শ্রেষ্ঠ লালন-পালনকারী চাই।” সেই ইচ্ছা অনুযায়ী শ্রেষ্ঠ দম্পতি খুঁজে তাদের পিতা মাতা নির্বাচন করা হল। বাংলাদেশ নামক পৃথিবীর সব থেকে অপরূপ দেশ নির্বাচন করা হল। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হল “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ”।
“আমরা চূড়ান্ত করেছি যে প্রজেক্ট আভাটার ফাইভে যেই শিশু জন্ম হবে দেখতে খুবই সুদর্শন হবে, যখন সে প্রাপ্ত বয়স্ক হবে তাই উচ্চতা হবে পাঁচ ফুট ১১ ইঞ্চি।” প্রকল্পের প্রধান নকশাবিদ এবং বিভাগীয় প্রধান মাননীয় বিশ্বকর্মা সংবাদ সম্মেলনে বলেন। সাংবাদিকদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি সম্মেলনে অধিক তথ্য ফাঁস করতে চাইলেন না। ঘন্টার পড় ঘণ্টা অনেক আলোচনা, বিতর্ক শেষে অবশেষে “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” প্রকল্পের মানব সন্তানের নাম নির্বাচন করা হল।
“তাকে আমরা সবাই ইরতেজা বলে ডাকব,” স্বর্গলোকের প্রধান দৈনিক “হেভেন টাইম” এর শিরোনামে বড় বড় লাল কালিতে লেখা হয়েছিল কথাটা।
কিন্তু “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” ব্যর্থ করতে “এন্টি অমি গ্রুপ” এর দুষ্ট দেবতারা পৃথিবীতে সাঁড়াশী অভিযান চালাল। তারা ঘাতক রূপী ম্যালেরিয়া জ়ীবানুবাহী মশা পাঠাল। সেই এনোফিলিস মশা সন্তানের ভ্রূণ ধারণকারী গর্ভবতী মা জনাবা মনোয়ারাকে দংশন করে। নবজাতকের জন্মে আগ মুহূর্ত বরিশাল গোরস্তান রোডের ছোট্ট নড়বড়ে ঘরের আশেপাশের প্রতিটা মানুষ কি প্রচণ্ড স্নায়বিক চাপ অনুভব করেছিল। নির্ধারিত সময়ে তিন সপ্তাহ আগে অপরিপক্ব শিশু জন্ম হল। জনাব আলী তার সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তান দেখে কষ্টে প্রায় আর্তনাদ করে উঠলেন। নানা-নানী সৃষ্টিকর্তা কাছে প্রার্থনা করে চোখের জল ফেলিল।
চিকিৎসাকারী বলিল IUGR সন্তান জন্ম নিয়েছে। এই শিশু খুব কম আয়ু নিয়ে আসে আর যদি ইশ্বরের কৃপায় বেঁচে যায় তারা হয় কুৎসিত কদাকার। এদের স্থায়ী শারীরিক এবং মানসিক অক্ষমতা থাকে।
একের পর এক বিপদ আসতে থাকল। জন্মের অল্প দিনে ঠাণ্ডা বুকে কফ জমে অসুস্থ হয়ে পড়ল। কিছু দিন পড়ে খেলার ছলে বিছানা থেকে পড়ে নিজের বাম হাত ভেঙ্গে ফেলল। মাত্র এক বছর বয়সী শিশুটির জলবসন্ত হল। প্রায় এক সপ্তাহ শিশুটির মা দিবা রাত্রি নিজের আঁচলে ঠেকে গভীর মমতাময় বসে রইলেন।
অলৌকিক ঘটনা বলুন বা “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” প্রকল্পের দলের অসাধারণ কাজের জন্য বলুন সেই কঙ্কালসার বচ্চাটি দিনে দিনে বেড়ে উঠল। স্বাস্থ্যবান হল, বিদ্বান্ হল, মেধাবী হল। ঠিক যেভাবে বিশ্বকর্মা চেয়েছিল ছেলেটা ঠিক সেভাবে। কিন্তু গল্প এইখানে শেষ নয়। ...
অনেকেই বলে “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” কিছু ত্রুটি আছে, তাদের প্রধান যুক্তি হচ্ছে , এই মানবের একটি নির্দিষ্ট জীবিকা নির্বাচন করা হয় নি। তাকে বলা হয়নি সে বড় হলে কি হবে। তার বাবা সাংবাদিক বা কলেজে শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও ছেলেটা পেশাজীবী হতে চায় না।এই ছেলেটা আসলে চলচ্চিত্র পরিচালক হতে চায়। ছেলেটা লিখতে আর বাংলা ইংরেজি বই পড়তে খুব পছন্দ করে। ছবি আঁকতে পছন্দ করে। প্রজেক্টে আরো অনেক বাগ পাওয়া গেল। “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” স ফল মনে হলেও একবার নয়, দুই দুইবার জীবনে প্রেম ভালোবাসায় দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে। ছেলেটা খুবই আত্ম ভোলা, কিছুটা অলস, কখনো কখনো খুবই উদ্ধত্যপুর্ন।
তাহলে কি “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” এ অতিমাত্রায় ভুল আছে? এতে কি “এন্টি অমি গ্রুপ” এর হাত আছে ? আসলে কি নিখুঁত মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। শুধু মাত্র সময় আমাদের সেটা বলে দিবে।
টুইটার নিয়ে আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল আর দশজনের মতোই। পুরো কনসেপ্ট হাস্যকর আর ফালতু ভেবে প্রথমেই টুইটার বাতিল করে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বিশ্বের হাজার হাজার ইন্টারনেটের ব্যবহারকারী মত আমিও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছি। টুইটার এখন আমার সবচেয়ে প্রিয় সাইটের মাঝে একটি।
টুইটার কি?
টুইটার একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। সারা পৃথিবী ছড়িয়ে থাকা আপনার বন্ধু এবং আগন্তুকদের নিয়ে একটা কমিউনিটি যেখানে তারা তাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ছোট ছোট এক বা দুই লাইনের আপডেট দেয়। আপডেটগুলো ১৪০ শব্দ বা তার কম হয় তাই এটাকে মাইক্রোব্লগিং সাইটও বলা যায়।
টুইটার কিভাবে কাজ করে?
“তুমি কি করছ?” এই সহজ প্রশ্নটি টুইটার করে। আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনের কখন কি করেন বা করবেন সেটা এখানে লিখবেন। অত্যন্ত সহজ করে ১৪০ শব্দের মাঝে। আপনাকে যারা ফলো বা অনুসরণ করবে তারা তাদের পেইজে আপনার আপডেট দেখতে পাবে। একই ভাবে আপনি চাইলে কাউকে ফলো করে তার আপডেট আপনার পাতায় দেখতে পারেন।
টুইটার নিয়ে উদাহরণ
নিজের পেইজ থেকেই একটা উদাহরণ দিলাম। তাহলে হয়ত অনেকের কাছে পরিষ্কার হবে। আজ কিছুক্ষণ আগে আমি টুইটারে আপডেট করেছি আমি আমাদের প্রযুক্তি ফোরামে নতুন টপিক লিখছি। সাথে সাথে আরো জানলাম রাসেল ভাই আজ সকালে চারুকলা একাডেমিতে ছবি প্রদর্শনী দেখতে যাচ্ছেন, হাসিন ভাই উবুন্টু রিজিল পার্টি আয়োজন করছেন, অমি আজাদ বাংলাদেশের কম্পিউটার মার্কেট নিয়ে নতুন ব্লগ লিখেছে এবং মৈথুনানন্দদা ঘুম থেকে উঠে গরম গরম কফি পান করছেন।
আমি কীভাবে শুরু করব?
টুইটার সাইটে গিয়ে প্রথমে সাইনআপ করতে হয়। এবং সেটা অবশ্যই ফ্রি। নিজের ইয়াহু , জিমেইল বা এমএসএন আইডিতে লগইন করে আপনার টুইটারে নিবন্ধিত বন্ধু খুঁজে নিতে পারেন। আবার নাম বা কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করে দেখতে পারেন। বারাক ওবামা থেকে শুরু করে সিএনএন ব্রেকিং নিউজ, লিনাক্স, ফায়ারফক্স সব কিছুই খুঁজে পাবেন। এরপর আপনি যাদের আপডেট জানতে আগ্রহী তাদের ফলো করবেন। পরে চাইলে যে কোন সময় ফলো করা বন্ধ করে দিতে পারেন। খুবই সহজ।
যা ভালো লেগেছে
১। মূল সাইটে লগইন না হয়ে মোবাইলে ফেসবুকে এমনকি ডেস্টটপ উডজেট দিয়ে আপডেট করা হয়।
২। মোবাইলে আপডেট সাবক্রাইব করতে পাবেন। ভয় পাবার কিছু নেই। মোবাইলে কোন বাড়তি বিল দিতে হয় না।
৩। আপডেটে কোন এইচটিএমএল গ্রহণ করে না। শুধু মাত্র ইংরেজী- বাংলা টেক্স দিয়ে আপডেট হয়। তাই পেইজ অনেক ফাস্ট খুলে।
৪। নিজের ব্লগের হিট এবং মন্তব্য বাড়ানো একটা ভালো পন্থা।
৫। ফেসবুক, মাইস্পেস বা অন্যান সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে টুইটার এপ্লিকেশন আছে। ব্লগস্পট, ওয়ার্ডপ্রেসে যারা ব্লগ লিখেন তারা টুইটার কোড কপি করে সাইটে নিজের আপডেট দেখাতে পারেন।
টুইটারে আমাকে ফলো করেই যাত্রা শুরু করতে পারেন।

আজকাল কেন যেন কিছুই লিখতে পারি না। ব্লগে প্রথম লাইন লিখতে না লিখতে মনে হয় এক কাপ গরম কফি বানিয়ে আনি তাহলে হয়ত লেখার ভাব আসবে। প্রথম প্যারাগ্রাফ শেষ হতে না হতে অনুভব করি খুব ঠাণ্ডা লাগছে রুমে হিটার চালু করি। দশ বারো মিনিট হতে না হতে মনে হয় দূর কি সব ছাইপাস লিখছি, যাই টিভিতে ফুটবল দেখি। কলিংউড আর সিডনী খেলা হচ্ছে। এক কোয়ার্টার খেলা দেখে আবার না হয় লিখতে বসব। এভাবে আমার আর ব্লগ লেখাই হয় না। একজন বিপদে সাহায্য হাত বাড়াল। উপদেশ দিল কঠিন বিষয় নিয়ে লিখতে গেলেই এমন হয় তার চেয়ে বরং আসে পাশের তুচ্ছ তুচ্ছ বিষয় নিয়ে লেখ। দেখ কেমন সুড়সুড় করে লেখা বের হচ্ছে। তাই আমিও এখন থেকে বেশি বেশি তুচ্ছ হালকা বিষয় নিয়ে লিখব ভাবছি । আজ থেকেই শুরু করি। দেখি লেখা কোথায় গিয়ে শেষ হয়।
দৈনন্দিন জীবনে ইণ্টারনেট থাকায় খুব সুবিধা হয়েছে। সারা পৃথিবীর যে কোন খবর তাক্ষনিক ভাবে জেনে যাই। সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন এমনকি রেডিও CNN, ABC, Channel 10 যে খবর দেখানো হয়নি সেই গরম খবর নেটের মাধ্যমে সবার আগে জেনে ফেলি। তারপরেও নেটে যাই শুনব তার সব কিছু কিন্তু সত্য নয়।
নেটে প্রাঙ্ক বা বোকা বানানো খুব সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে এপ্রিল মাসের প্রথম তারিখ কে কাকে কীভাবে বোকা বানাবে সেই জন্য সবাই উঠে পড়ে লাগে। ব্যক্তি জীবনের আমি নিজে চরম বোকা মানুষ। আমি যা শুনি সরল মনে তাই বিশ্বাস করি। যে মানুষ বছরে ৩৬৪ দিন বোকা-সোকা সে বছরের আরেকটি দিন বেশী বোকা হলে তেমন কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু সমস্যা হয় বুদ্ধিমান্ লোকদের। তাদের থাকে সবার সামনে বোকা হবার আশঙ্কা। দিন তারিখ ভুলে অতি চালাক মানুষেরাও মাঝে মাঝে রীতিমত এপ্রিল ফুল বনে যায়।
সবাইকে এপ্রিল মাসের বোকা বানাতে অরকুট এক দিনের জন্য তাদের সাইটের নাম পরিবর্তন করে Orkut থেকে yogurt করে ছিল। এতটা বিশ্বাসযোগ্য ভাবে যে আইআইটি থেকে পাশ করা এক ভারতীয় বন্ধু এমএসএনে বলেছিল, “ জানিস অরকূট কি করেছে?”
আমি না জানার ভান করে বলি, “ কেন, কি করেছে?”,
“অরকুট আজ থেকে তাদের সাইটের নাম অরকুট থেকে ইয়োগার্ট করে ফেলেছে।”
আমি হতাশ হয়ে বলি, “দোস্ত আজকে তারিখ কত রে?”
তবে গত বছর গুগলের প্রাঙ্ক এদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে । তারা সারা বিশ্বে মুক্ত ইন্টারনেট দেবার কথা বলেছিল। নিজের বাসায় বসে মুক্ত ব্রডব্যান্ড। সেখানে ছিল আপনি সাইন আপ করবেন। গুগল আপনার বাসায় একটা মডেম পাঠাবে, একটা ফাইবার কেবল পাঠাবে। আপনার যা করতে হবে তা হল আপনার টাট্টিখানার কমোডে সেই কেবল ছেড়ে দিবেন আর তাতেই আপনার কম্পিউটার ইন্টারনেট চলে আসবে। বোধবুদ্ধিসম্পন্ন যে কোন মানুষ বুঝতে পারবে এটা একটি নিছক রসিকতা। কিন্তু জাতীয় দৈনিক (ইত্তেফাকে তথ্যপ্রযুক্তি) পাতায় একজন সাংবাদিক দেখি লাল কলামে গুগলের মুক্ত ব্রডব্যান্ড দেবার খবর নিয়ে ছবি সহ বিশাল সংবাদ হয়ে গেছে। সামহোয়ার ব্লগে একজন প্রখ্যাত পণ্ডিত ব্লগার এই নিয়ে গুরু গম্ভীর পোষ্ট দিয়েছেন। মন্তব্য জবাবী লিখেছেন আমেরিকা থাকলে মডেম আসতে এক সপ্তাহ লাগতে পারে বাংলাদেশে হলে একটু সময় বেশি লাগবে। হাসতে হাসতে আমার দম বন্ধ হবার উপক্রম।
এই সব তুলনায় টুইটারে বন্ধুর স্ট্যাটাস অনেকটা বিশ্বাসযোগ্য। মজিলা সাইটে উঁকি মেরে দেখলাম আসলে বন্ধু মোটেই রসিকতা করছে না। একেবারে সিরিয়াস। একদিনে সর্বাধিক ডাউনলোডকৃত সফটওয়ার হিসেবে ফায়ারফক্স গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন করার পরিকল্পনা করছে। ফায়ারফক্স নতুন ভার্সনের মুক্তির প্রথম দিনটি “ডাউনলোড ডে” পালন করবে। প্রথম চব্বিশ ঘণ্টায় সবাইকে এক কপি করে ফায়ারফক্স ডাউনলোড করতে অনুরোধ করেছে। মজিলা বেশ রসকষ দিয়েই লিখেছে, “it’s that easy. We're not asking you to swallow a sword or to balance 30 spoons on your face, although that would be kind of awesome.” (কি বুদ্ধি। এমন বুদ্ধি মাইক্রোফট, ইয়াহু কারো আসল না কেন? আফসোস! )
জনপ্রিয় ব্রাউজার ফায়ারফক্সের ভক্ত আমি কোন কালেই ছিলাম না। সেই মোগল আমলে স্কুল জীবনে Netscape Navigator ব্যবহার করতাম। ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত অন্য সবার মত Internet Explorer। “দেখি ত কেমন ব্রাউজার” কৌতূহলী হয়ে হঠাৎ Avant Browser ডাউনলোড করেছিলাম। প্রথম দর্শনেই প্রেমে পড়ে গেলাম। সেই থেকে এখনো Avant ব্যবহার করি। ব্রাউজার নিয়মিত আপডেট করি। মাঝে মাঝেই Opera, Firefox থেকে শুরু করে এপেল সাফারি, Flock সব কিছুই ব্যবহার করেছি কিন্তু এভান্টের মত মজা আর তৃপ্তি কোথাও পাই নি।
মজিলা ফায়ারফক্স কবে বিশ্ব-রেকর্ড করতে চায় সেই দিনক্ষণ পরিষ্কার করে কিছু বলছে না। আগে তারিখ ঠিক করে তারপরে বিশ্বরেকর্ড গড়ার কথা বলাই কি উচিত না? একেবারে বলে দিলেই হয় অমুক তারিখ রিলিজ হবে আগ্রহীরা এসে ডাউনলোড করে নাও। তা নয় শুধুমাত্র তারিখ জানতেই নিজের দেশ আর মেইল ঠিকানা দিয়ে আবেদন করতে হবে। ওরা মেইল করে পরে দিনক্ষণ জানাবে। এমন অভিনব বিজ্ঞাপন পন্থা দেখে চমৎকৃত হলাম। বিশ্বের মানচিত্র দেখছি আমেরিকার থেকে প্রায় দুই শত, অষ্টেলিয়ার থেকে ৫ জন আর বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন করে নি।
ফায়ারফক্স নতুন ভার্সন ছাড়লেই যে ইণ্টারনেট ব্যবহারকারী সবাই চোখ বন্ধ করে ইনস্টল করা শুরু করবে না সেটা মোজিলাও জানে। আমি নিজেও কোন সফটওয়ার পিসিতে ইনষ্টল করার আগে ডাউনলোড ডটকমে খুব ভাল ভাবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের রিভিউ পড়ে তবেই ইনষ্টল করি। আবার অনেকেই দেখি কোন কারণ ছাড়াই ভার্সন 2.0 বা 3.0 থেকে 2.0.1 বা 3.1 বা 3.0.1 নামাতে পছন্দ করে। কারণ যতই আলফা বিটা করুক প্রথম রিলিজে বাগ থাকতে বাধ্য। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেখানে নতুন মডেলের আইপড পর্যন্ত দোকানে আসার আগের দুই তিন দিন আগেই কিন্তু সেই দোকানে নতুন হরেক রকম কভার, নতুন মডেলের জন্য প্রয়োজনীয় Accessories সব কিছুই কিন্তু বাজারে চলে আসে। ব্রাউজার ব্যাপারটাও এখন অনেকটা এই রকম। স্বতন্ত্র ব্রাউজার এখন আর কেউ ব্যবহার করে না। এর সাথে ব্যবহার করি হরেক রকম প্রয়োজনীয় এ্যাডঅন। মুক্তির আগে তাই তৈরি করে রাখতে হয় তার জন্য হরেক রকম ব্রাউজার এ্যাড অন। বিভিন্ন এ্যাড অন যেমন গুগল টুলবার, স্ট্যাম্বলআপন টুলবার নানা স্ক্রিন, থিম আরো অনেক কিছু। কিন্তু এইগুলো বেশীর ভাগিত থার্ড পার্টি আপ্লিকেশন। এই সব কিছু না থাকলে শুধুমাত্র ফায়ারফক্স ভার্সন কে ব্যবহার করতে চাইবে?
একদিনে সর্বাধিকারী ডাউনলোডকৃত সফটওয়ার হিসেবে বিশ্ব-রেকর্ড মত অভিনব রেকর্ড আগে কোন দিন শুনি নি। গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিশ্চয়ই চারটি খানি কথা নয়। বিশ্ব-রেকর্ড গড়তে আগে অফিসিয়ালি আবেদন করতে হয়, গিনেজ বুক থেকে নির্বাচিত বিচারক থাকে। তারা পরীক্ষা করে দেখবে আসলে রেকর্ড হয়েছে কিনা। অনুমোদন দিলেই তবে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস থেকে অথেনটিক সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। বুঝতে পারছেন আর যাই হোক বিশ্ব-রেকর্ড গড়া বিশাল একটা ব্যাপার।
এই নিয়ে একটা মজার কাহিনী বলি। তখন সবে মাত্র এখানে এসেছি। যাই দেখি তাতেই একেবারে একেবারে মুগ্ধ। একটা গ্রামের মাঝে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছি হঠাৎ রাস্তার পাশে দেখি বড় করে লেখা পৃথিবীর সব থেকে বড় পানি টেঙ্কি। আমি আগ্রহ নিয়ে ব্যাক গিয়ার করে গাড়ি পেছন নিলাম। বিশাল সাইনবোর্ড স্পষ্ট করে লেখা Place of Interest সাইন দিয়ে তীর চিহ্ন দেওয়া এই দিকে দুই কিমি দূরে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত পৃথিবীর সব থেকে বড় পানির টেঙ্কি। আমি আমার পাশে বসা মিশেলকে বলি চল দেইখা আসি। জীবন আর কিছু না হোক অন্তত নাতি পুঁতিকে বলতে পারব আর কিছু না পারি সব থেকে বড় পানির পৃথিবীর টেঙ্কি অন্তত দেখেছি। মিশেলের খুব একটা উৎসাহ দেখলাম না। চোখ পাকিয়ে বলল এটা দেখার কি আছে? আমি বললাম অবশ্যই আছে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বলে কথা। যাক অম্প কিছুক্ষণ গাড়ি চালিয়ে একটা ছোট ফার্মে চলে আসলাম। এখানে আর যে কোন দশটা খামার বাড়ি মতোই। বাড়ির সামনেই মাঝারি আকারের পানির টেঙ্কি। এমনকি আমাদের চট্রগ্রামে বাড়ির সামনের ডিসী হিলের পানির ট্যাঙ্কির চেয়েও ছোট। এখানেও বোর্ডে বড় করে লেখা গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত পৃথিবীর সব থেকে বড় এবং উঁচু পানির টেঙ্কি। কিন্তু নিচে ব্র্যাকেট ছোট করে লেখা কাঠের তৈরি তিন খুঁটিওয়ালা। এবার পুর বিষয়টি পরিষ্কার হল। আমার মাথায় ঢুকছে না ইট সিমেন্ট , কনক্রিট, স্টীল এত কিছু থাকতে কাঠের পিলারে তৈরি পানির টেঙ্কি কেন বানানো দরকার? হয়ত সারা বিশ্বে এটাই একমাত্র তেপায়া কাঠের খুঁটী দিয়ে বানানো পানির টেঙ্কি সুতরাং ৫০ বিলয়ন লিটার হোক আর ৫০ লিটার হোক এটাই হবে রেকর্ড।
তাই যেহেতু এমন কোন রেকর্ড আগে হয়নি তাই ফায়ারফক্স চব্বিশ ঘণ্টায় পাঁচ মিলিয়ন কপি ডাউনলোড হলেও এটা নতুন বিশ্ব রেকর্ড পাঁচ কপি ডাঊনলোড হলেও এটা নতুন বিশ্ব রেকর্ড। মজিলাও একি সাথে ফায়ারফক্সের প্রচারণা করল আর চামতালে একটা ফাউ ফাউ বিশ্ব রেকর্ড করে ফেলল। ট্যাগ লাইন এখন আছে পুরস্কার বিজয়ী ব্রাউজার দুই দিন পড়ে নতুন ট্যাগ লাইন হবে বিশ্ব রেকর্ডধারী ব্রাউজার। হায়রে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস!
আজ তুমি আসবে বলে,
টলটলে নীল আকাশটা ভরে গেছে সাদা মেঘে।
আজ তুমি আসবে বলে,
আগুন লেগেছে প্রিয় চট্টলার সবকটা কৃষ্ণচুড়ায়।
আজ তুমি আসবে বলে,
অসহ্য লাগছে না লোড-শেডিং, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।
মন্দ লাগছে না বন্দর নগরীর গা চিটচিটে অতীষ্ঠ গরম,
হাজারো মানুষের ভিড়ে তীব্র যানজট,
রাস্তার পাশের ময়লা ডাস্টবিনের উপরের
বাদামী ঘাড়ের দাঁড় কাকের কর্কশ ডাকও আজ কি মধুর।
আজ তুমি আসবে বলে,
সকাল থেকেই গুনগুন করছি অর্নবের নতুন গান।
আজ তুমি আসবে বলে,
ফাল্গুনের সাজে আজ আমি সাজব।
আজ তুমি আসবে বলে,
ঈদে মামার দেওয়া নতুন কামিজটা পড়েছি।
আয়নায় দাঁড়িয়ে কপালে নীল টিপ দিয়েছি,
ঠোটে হালকা হালকা লিপস্টিক,
মেখেছি ভাবির দেওয়া বিদেশি সেন্টের সুগন্ধ।
আজ তুমি আসবে বলে,
এলোমেলো লম্বা কলো চুল পিছনে ফেলে,
সুন্দর করে বেনী করেছি।
ভাবি আমায় দেখে হেসে বলল,
‘তোকে যা সুন্দর লাগছে না
একেবারে কাজল মাধুরী।
তোকে দেখে তার মাথা খারাপ হয়ে যাবে।’
দূর, আমার যে কি লজ্জা লাগছিল,
ইস তুমি যদি একবার দেখতে।
আজ তুমি আসবে বলে,
টিউশনি করে জমানো টাকায়
মুঠো ফোনে ক্রেডিট ভরিয়েছি।
আজ তুমি আসবে বলে,
মধ্য দুপুরে ছোট্ট গলি ধরে বেরিয়ে পড়েছি।
পাড়ার বকাটে ছেলেরা শিষ্ দিয়েছে,
কালো টিশার্ট পড়া গুন্ডা মত সেই ছেলেটা
পেছন থেকে নোংরা ইঙ্গিত করেছে।
না দেখার ভান করে হেঁটে গেলাম,
মাথা নিচু করে নিঃশব্দে,
না, আজ আমি মন খারাপ করব না।
আজ তুমি আসবে বলে,
তোমার জন্য উপহার নিয়ে এলাম
কবির একশ একটি নীল পদ্ম।
মনের অনেক অজানা কথা বলব আজ
বলব নিজের ভাল লাগার কথা,
ভালবাসার কথা।
আজ তুমি আসবে বলে,
লাইব্রেবীর সিড়িতে বসে থাকলাম সারাটা বিকেল
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম সামনের রাস্তায়।
এই বুঝি তুমি এলে, এই এলে।
ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে চারটা বাজল, পাঁচটা বাজল, ছয়টা বাজল,
আমার কেন জানি খুব কান্না পাচ্ছে।
দেখতে দেখতে পুরো শহরে অন্ধকার নেমে এল,
তুমি এলে না।
১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচলনায় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র ভূখন্ডকে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র বা সেক্টরে ভাগ করা হয়।
এম এ জি ওসমানী (সর্বাধিনায়ক)
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার (উপ প্রধান সেনাপতি)
লে.কর্নেল আবদুর রব(উপ প্রধান সেনাপতি)
১নং সেক্টর
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত
সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) (এপ্রিল- জুন)
সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) (জুন - ডিসেম্বর)
২নং সেক্টর
নোয়াখালী জেলা, কুমিল্লা জেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষ
সেক্টর কমান্ডার মেজর এ.টি.এম হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)
সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)
৩নং সেক্টর
সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ
সেক্টর কমান্ডার মেজর কেএম শফিউল্লাহ (বীর উত্তম) (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর),
সেক্টর কমান্ডার মেজর এ.এন.এম নুরুজ্জামান (বীর উত্তম) (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)
৪নং সেক্টর
সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত
সেক্টর কমান্ডার মেজর জে: সি আর দত্ত (বীর উত্তম)
৫নং সেক্টর
সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল
সেক্টর কমান্ডার মেজর মীর শওকত আলী (বীর উত্তম)
৬নং সেক্টর
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
উইং কমকান্ডার খাদেমুল বাশার
৭নং সেক্টর
দিনাজপুর জেলার দক্ষিনাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা জেলা
সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হক ( অগাস্ট পর্যন্ত )
সেক্টর কমান্ডার মেজর কাজী নুরুজ্জামান (বীর উত্তম)
৮নং সেক্টর
সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুরের অধিকাংশ এলাকা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশ
সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল- আগস্ট),
সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ মুঞ্জুর (বীর উত্তম) (আগস্ট-ডিসেম্বর)
৯নং সেক্টর
দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিনাঞ্চল এবং সমগ্র বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা
সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল মিঞা (এপ্রিল-ডিসেম্বর প্রথমার্ধ),
সেক্টর কমান্ডার মেজর জয়নুল আবেদীন ( ডিসেম্বর এর অবশিষ্ট দিন)
১০নং সেক্টর
কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা গঠিত। শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত।
১১নং সেক্টর
কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল
সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু তাহের (বীর উত্তম) (আগস্ট-নভেম্বর),
সেক্টর কমান্ডার স্কেয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)
টাংগাইল সেক্টর
সমগ্র টাংগাইল জেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার অংশ
কাদের সিদ্দিকী।
সেক্টর কমান্ডার ফোরাম

ব্রিক লেন’ উপন্যাসের লেখক বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট মনিকা আলি। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৩ সালে। ম্যান বুকার পুরস্কারের শর্ট লিস্টে মনিকা আলি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেখক। ‘ব্রিক লেন’ নিয়ে বাংলাদেশে ও অন্য জায়গার বাংলাদেশি কমিউনিটির মাঝে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
২০০৬ সালের শুরুতে শুনেছিলাম সারা গেভরন ব্রিক লেন উপন্যাস অবলম্বনে একটি চলচিত্র রুপান্তরিত করছে। সেই বছরেই আগস্টে আমরা ইণ্টারনেটের মাধ্যমে জেনেছিলাম ব্রিক লেন চলচিত্র তৈরীর প্রতিবাদে লন্ডনের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ প্রতিবাদ করছে। তাদের অভিযোগটি ছিল গুরুতর, উপন্যাসটিতে নাকি বাংলাদেশের লন্ডনের কমিউনিটিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তথাপি উপন্যাসটি পড়ে আমার কখনও এমন মনে হয়নি। রাগান্বিত প্রতিবাদকারীর কয়জন প্রকৃতপক্ষে উপন্যাসটি পড়েছেন তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
যুক্তরাজ্যে ‘ব্রিক লেন’ প্রিমিয়ার হয়েছে ২৬ অক্টোবর, ২০০৭। প্রায় পাঁচ মাস পড় ব্রিক লেন গতকাল ২০শে মার্চ অষ্টেলিয়াতে প্রিমিয়ার হয়েছে। বাসা থেকে সিনেমা প্যালেস কোমো মাত্র সাত মিনিট হাটার পাথ। হলের দরজার সামনে বড় বড় পোষ্টারে বাংলাদেশের গ্রামের ধানক্ষেতে ছুটে চলা কিশোরিকে দেখেই নিজের শৈশবের কথা মনের পড়ল। গুড ফ্রাইডে ছুটি থাকায় কারনেই হোক আর প্রমিয়ার শো হবার কারনেই হোক মুভি থিয়েটার ছিল প্রায় পূর্ণ। দর্শকের অধিকাংশই অষ্ট্রেলিয়ান। হাতে গোনা তিন চারটে বাঙ্গালি পরিবারও দেখলাম।
আমি মাত্র কিছু দিন আগেই ব্রিক লেন বইটি পড়ে শেষ করেছি। কোন বই পড়ে মুভি দেখতে গেলে আমার একটা বড় সমস্যা হয়। কেন জানি নিজের কল্পনার জাল বুনে নিজের মনের মাঝেই একটা ছবি বানিয়ে ফেলি। নিজের মনের ছবির সাথে বাস্তবে মিল না পেলেই হতাস হই। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ছবির শুরুটা আমার একেবারেই ভাল লাগে নি।
অবশ্যই মুভি শুরু হয়েছে মুল চরিত্র নাজনিনের ( তানিস্থ চট্টোপাধ্যায়) বাংলাদেশের গ্রামের শৈশবের দৃশ্যাধারণ দিয়েই। নাজনীনের বেড়ে উঠা, ধানের ক্ষেতে ছুটে চলা, পুকুরে সাতার কাটা, বৃষ্টিতে ভেজা, বন্ধুদের সাথে খেলা করা, নাজনীনের মার পুকুড়ে ডুবে আতহত্যা, নাজনীনের বাল্য বিবাহ এত কিছু সব মাত্র ৪- ৫ মিনিটে দেখিয়েছেন। এভাবে তাড়াহুড়া করে দেখানোর কোন দরকার ছিল না। আমি জানি বড় একটা বইকে ১০১ মিনিটে দেখাতে গেলে কিছুটা কাটছাট করতেই হবে। কিন্তু পরিচালক সারা গেভরন হয়ত মুল কাহিনীর উপর অধিক মাত্রায় সিনেমাটিক লাইসেন্স নিয়ে ফেলেছেন। উপন্যাসের শুরুর দিকের ঘটনা, নাজনীনের বেড়ে উঠা, তার বিবাহ আরো বিস্তারিত করে দেখানো উচিত ছিল। নাজনীনের সাথে চানুর (সতিশ কৌশিক) বিবাহ যেভাবে দেখানো হয়েছে যারা বইটি পড়েন নি সে সব বিদেশীদের কাছে অদ্ভুত এবং অবিশ্বাস্য লাগবে। নাজনীনের সাথে তার ছোট বোন হাসিনার সাথে তার সম্পর্কটা আরো গভীর ভাবে দেখানো জেত। হাসিনার চরিত্র মুল উপন্যাসে অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন। নাজনীনের আবেগ, আদর্শ, বোনের প্রতি তার ভালোবাসা, নিজের ফেলে আশা গ্রামের প্রতি তার পিছুটান ইত্যাদি বইটি থেকে মুভিতে বিশ্বাসযোগ্যভাবে অ্যাডাপ্ট করার জন্যই ৪-৫ মিনিটের স্থানে অন্তত ১৫- ২০ মিনিট ফুটেজ দাবী রাখে।
ছবির টাইটেল, অভিনেতাদের নাম দেখাতে দেখাতেই নাজনীন দুই টিনেজ মেয়ে সাহানা আর বিবির মা আর চানু আহমেদের আদর্শ পত্নি। চানু আহমেদ তার দুই মেয়ে আর পত্নি নিয়ে পুর্ব লন্ডনের ব্রিক লেনে বসবাস করেন। ব্রিক লেন ইস্ট লন্ডনের ঘিঞ্জি এলাকা। চানু তার আর্থিক দৈন্যতার কারনে একটা নোংরা অ্যাপার্টমেন্টের পুর্ব প্রান্তের সস্তা দুই রুমের ছোট ফ্লাটে থাকেন। চানু আহমেদ আর নাজনীনের বয়সের অনেক পার্থক্য। নিজের পরিবারের আয় বাড়ানোর জন্য নাজনীন বাড়িতেই মেশিন কিনে সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। প্রতি কাপড় সেলাই করে সে এক পাউন্ড পায়। সে কল্পনা করে এভাবে অম্প অম্প করে পাউন্ড জমিয়ে যে তার প্রিয় বাংলাদেশে আসবে। তার ছোট বোন হাসিনাকে দেখতে যাবে। ১৭ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে আসার পর সে একবারের জণ্য হলেও হাসিনাকে দেখে নি। হাসিনার সাথে তার সব সময় চিঠিপত্র আদান প্রদান হয়। নিজের মনে সব কথা, সব স্বপ্ন নাজনীন হাসিনাকে লিখে পাঠায়।
সেলাইয়ের কাজ করতে গিয়ে দেখা হয় করিমের( ক্রিষ্টোফার সিম্পশন) সাথে। করিম ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী আধুনিক, হেন্ডসাম, পরিশ্রমি যুবা। নাজনীনের সমবয়সি ও স্থানীয় কাপড়ের ব্যবসায়ি। তাদের মাঝে একটা সম্পর্ক তৈরী হয়। করিম স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির এখন উঠতি নেতা। করিম চায় নাজনীন চানুকে তালাক দিয়ে তার সাথে বাস করতে। এর মাঝেই ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলা হল। স্থানীয় সমাজে একটা দাঙ্গা হবার আশঙ্কা দেখা দিল। এর মাঝেই চানু সিদ্ধান্ত নিল সে আর এই দেশে থাকবে না পুরো পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত যাবে। বইটি না পড়ে থাকলে ছবির শেষ অংশটি অপ্রতাশিত মনে হওয়া খুবি স্বাভাবিক।
মুভিটির চিত্রায়ন হয়েছে ভারত ও লন্ডনের নানা স্থানে। মুভিতে নাজনীন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানিস্থ চ্যাটার্জি, চানু চরিত্রে অভিনয় করেছেন সতিশ কৌশিক। এই ছবিটি একেবারেই তানিস্থা চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। তানিস্থা ভারতীয় থিয়েটার গুনি অভিনেতা। শুনেছি সে দুই একটা হিন্দি মুভিও করেছে। সফল ভাবেই জটিল একটা চরিত্র আভিনয় করেছে। তার সাধাসিধে ইংরেজী উচ্চারন একেবারেই চরিত্রের নাজনীনের সাথে মিশে গেছে। ব্রিক লেন দেখে মনেই হয়নি সারা গেভরন পরিচালিত প্রথম ছবি। সারা গেভরন এত ঝড় ঝাপটার মাঝেও ছবিটি যত্নশীল হয়ে সমাপ্ত করেছে তার জন্য তার বাহাবা প্রাপ্য।
ভাল লাগে নি
১। নাজনিনের শৈশব আরো ফুটেজ দেওয়া উচিত ছিল। ( অন্তত আমার কাছে মনে হয়েছে)
৩। হাসিনার চিঠি পড়ার সময় ইংরেজীতে পড়ানো হয়েছে। হাসিনা বাংলাদেশে থাকে তার ইংরেজ়ি চিঠি লেখার কোন কারন নেই। বাংলায় পড়ে নিচে ইংরেজী সাবটাইটেল দিলেই হত।
২। বিরতির আগের ১৫ মিনিটের গতি খুব ধীর ছিল।
ভালো লেগেছেঃ
১। কাহিনী এবং সংলাপ।
২। চমৎকার আবহ সঙ্গিত ( জোসেলিন পোককে এত দিন শুধুমাত্র প্রতিভাবান ভায়োলিন বাদক হিসেবেই চিনতাম।)
৩। তানীশা চট্টোপাধ্যায়, ক্রিষ্টোফার সিম্পশন,সতিস কৌশিকের অনবদ্য অভিনয়।
৪। অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফি।
আমি ব্রিক লেন মুভিটিকে সাড়ে ৩ ষ্টার দিলাম ( ৫ এর ভিতর)
ব্রিক লেন অফিসিয়াল ওয়েব সাইট
ব্রিক লেন মুভি ট্রেইলার





