টুইটার নিয়ে আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল আর দশজনের মতোই। পুরো কনসেপ্ট হাস্যকর আর ফালতু ভেবে প্রথমেই টুইটার বাতিল করে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বিশ্বের হাজার হাজার ইন্টারনেটের ব্যবহারকারী মত আমিও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেছি। টুইটার এখন আমার সবচেয়ে প্রিয় সাইটের মাঝে একটি।
টুইটার কি?
টুইটার একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। সারা পৃথিবী ছড়িয়ে থাকা আপনার বন্ধু এবং আগন্তুকদের নিয়ে একটা কমিউনিটি যেখানে তারা তাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ছোট ছোট এক বা দুই লাইনের আপডেট দেয়। আপডেটগুলো ১৪০ শব্দ বা তার কম হয় তাই এটাকে মাইক্রোব্লগিং সাইটও বলা যায়।
টুইটার কিভাবে কাজ করে?
“তুমি কি করছ?” এই সহজ প্রশ্নটি টুইটার করে। আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনের কখন কি করেন বা করবেন সেটা এখানে লিখবেন। অত্যন্ত সহজ করে ১৪০ শব্দের মাঝে। আপনাকে যারা ফলো বা অনুসরণ করবে তারা তাদের পেইজে আপনার আপডেট দেখতে পাবে। একই ভাবে আপনি চাইলে কাউকে ফলো করে তার আপডেট আপনার পাতায় দেখতে পারেন।
টুইটার নিয়ে উদাহরণ
নিজের পেইজ থেকেই একটা উদাহরণ দিলাম। তাহলে হয়ত অনেকের কাছে পরিষ্কার হবে। আজ কিছুক্ষণ আগে আমি টুইটারে আপডেট করেছি আমি আমাদের প্রযুক্তি ফোরামে নতুন টপিক লিখছি। সাথে সাথে আরো জানলাম রাসেল ভাই আজ সকালে চারুকলা একাডেমিতে ছবি প্রদর্শনী দেখতে যাচ্ছেন, হাসিন ভাই উবুন্টু রিজিল পার্টি আয়োজন করছেন, অমি আজাদ বাংলাদেশের কম্পিউটার মার্কেট নিয়ে নতুন ব্লগ লিখেছে এবং মৈথুনানন্দদা ঘুম থেকে উঠে গরম গরম কফি পান করছেন।
আমি কীভাবে শুরু করব?
টুইটার সাইটে গিয়ে প্রথমে সাইনআপ করতে হয়। এবং সেটা অবশ্যই ফ্রি। নিজের ইয়াহু , জিমেইল বা এমএসএন আইডিতে লগইন করে আপনার টুইটারে নিবন্ধিত বন্ধু খুঁজে নিতে পারেন। আবার নাম বা কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করে দেখতে পারেন। বারাক ওবামা থেকে শুরু করে সিএনএন ব্রেকিং নিউজ, লিনাক্স, ফায়ারফক্স সব কিছুই খুঁজে পাবেন। এরপর আপনি যাদের আপডেট জানতে আগ্রহী তাদের ফলো করবেন। পরে চাইলে যে কোন সময় ফলো করা বন্ধ করে দিতে পারেন। খুবই সহজ।
যা ভালো লেগেছে
১। মূল সাইটে লগইন না হয়ে মোবাইলে ফেসবুকে এমনকি ডেস্টটপ উডজেট দিয়ে আপডেট করা হয়।
২। মোবাইলে আপডেট সাবক্রাইব করতে পাবেন। ভয় পাবার কিছু নেই। মোবাইলে কোন বাড়তি বিল দিতে হয় না।
৩। আপডেটে কোন এইচটিএমএল গ্রহণ করে না। শুধু মাত্র ইংরেজী- বাংলা টেক্স দিয়ে আপডেট হয়। তাই পেইজ অনেক ফাস্ট খুলে।
৪। নিজের ব্লগের হিট এবং মন্তব্য বাড়ানো একটা ভালো পন্থা।
৫। ফেসবুক, মাইস্পেস বা অন্যান সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে টুইটার এপ্লিকেশন আছে। ব্লগস্পট, ওয়ার্ডপ্রেসে যারা ব্লগ লিখেন তারা টুইটার কোড কপি করে সাইটে নিজের আপডেট দেখাতে পারেন।
টুইটারে আমাকে ফলো করেই যাত্রা শুরু করতে পারেন।
চমৎকার একটি সাইট টুইটার ডটকম
ফায়ারফক্সের বিশ্ব রেকর্ড এবং কিছু কথা

আজকাল কেন যেন কিছুই লিখতে পারি না। ব্লগে প্রথম লাইন লিখতে না লিখতে মনে হয় এক কাপ গরম কফি বানিয়ে আনি তাহলে হয়ত লেখার ভাব আসবে। প্রথম প্যারাগ্রাফ শেষ হতে না হতে অনুভব করি খুব ঠাণ্ডা লাগছে রুমে হিটার চালু করি। দশ বারো মিনিট হতে না হতে মনে হয় দূর কি সব ছাইপাস লিখছি, যাই টিভিতে ফুটবল দেখি। কলিংউড আর সিডনী খেলা হচ্ছে। এক কোয়ার্টার খেলা দেখে আবার না হয় লিখতে বসব। এভাবে আমার আর ব্লগ লেখাই হয় না। একজন বিপদে সাহায্য হাত বাড়াল। উপদেশ দিল কঠিন বিষয় নিয়ে লিখতে গেলেই এমন হয় তার চেয়ে বরং আসে পাশের তুচ্ছ তুচ্ছ বিষয় নিয়ে লেখ। দেখ কেমন সুড়সুড় করে লেখা বের হচ্ছে। তাই আমিও এখন থেকে বেশি বেশি তুচ্ছ হালকা বিষয় নিয়ে লিখব ভাবছি । আজ থেকেই শুরু করি। দেখি লেখা কোথায় গিয়ে শেষ হয়।
দৈনন্দিন জীবনে ইণ্টারনেট থাকায় খুব সুবিধা হয়েছে। সারা পৃথিবীর যে কোন খবর তাক্ষনিক ভাবে জেনে যাই। সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন এমনকি রেডিও CNN, ABC, Channel 10 যে খবর দেখানো হয়নি সেই গরম খবর নেটের মাধ্যমে সবার আগে জেনে ফেলি। তারপরেও নেটে যাই শুনব তার সব কিছু কিন্তু সত্য নয়।
নেটে প্রাঙ্ক বা বোকা বানানো খুব সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে এপ্রিল মাসের প্রথম তারিখ কে কাকে কীভাবে বোকা বানাবে সেই জন্য সবাই উঠে পড়ে লাগে। ব্যক্তি জীবনের আমি নিজে চরম বোকা মানুষ। আমি যা শুনি সরল মনে তাই বিশ্বাস করি। যে মানুষ বছরে ৩৬৪ দিন বোকা-সোকা সে বছরের আরেকটি দিন বেশী বোকা হলে তেমন কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু সমস্যা হয় বুদ্ধিমান্ লোকদের। তাদের থাকে সবার সামনে বোকা হবার আশঙ্কা। দিন তারিখ ভুলে অতি চালাক মানুষেরাও মাঝে মাঝে রীতিমত এপ্রিল ফুল বনে যায়।
সবাইকে এপ্রিল মাসের বোকা বানাতে অরকুট এক দিনের জন্য তাদের সাইটের নাম পরিবর্তন করে Orkut থেকে yogurt করে ছিল। এতটা বিশ্বাসযোগ্য ভাবে যে আইআইটি থেকে পাশ করা এক ভারতীয় বন্ধু এমএসএনে বলেছিল, “ জানিস অরকূট কি করেছে?”
আমি না জানার ভান করে বলি, “ কেন, কি করেছে?”,
“অরকুট আজ থেকে তাদের সাইটের নাম অরকুট থেকে ইয়োগার্ট করে ফেলেছে।”
আমি হতাশ হয়ে বলি, “দোস্ত আজকে তারিখ কত রে?”
তবে গত বছর গুগলের প্রাঙ্ক এদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে । তারা সারা বিশ্বে মুক্ত ইন্টারনেট দেবার কথা বলেছিল। নিজের বাসায় বসে মুক্ত ব্রডব্যান্ড। সেখানে ছিল আপনি সাইন আপ করবেন। গুগল আপনার বাসায় একটা মডেম পাঠাবে, একটা ফাইবার কেবল পাঠাবে। আপনার যা করতে হবে তা হল আপনার টাট্টিখানার কমোডে সেই কেবল ছেড়ে দিবেন আর তাতেই আপনার কম্পিউটার ইন্টারনেট চলে আসবে। বোধবুদ্ধিসম্পন্ন যে কোন মানুষ বুঝতে পারবে এটা একটি নিছক রসিকতা। কিন্তু জাতীয় দৈনিক (ইত্তেফাকে তথ্যপ্রযুক্তি) পাতায় একজন সাংবাদিক দেখি লাল কলামে গুগলের মুক্ত ব্রডব্যান্ড দেবার খবর নিয়ে ছবি সহ বিশাল সংবাদ হয়ে গেছে। সামহোয়ার ব্লগে একজন প্রখ্যাত পণ্ডিত ব্লগার এই নিয়ে গুরু গম্ভীর পোষ্ট দিয়েছেন। মন্তব্য জবাবী লিখেছেন আমেরিকা থাকলে মডেম আসতে এক সপ্তাহ লাগতে পারে বাংলাদেশে হলে একটু সময় বেশি লাগবে। হাসতে হাসতে আমার দম বন্ধ হবার উপক্রম।
এই সব তুলনায় টুইটারে বন্ধুর স্ট্যাটাস অনেকটা বিশ্বাসযোগ্য। মজিলা সাইটে উঁকি মেরে দেখলাম আসলে বন্ধু মোটেই রসিকতা করছে না। একেবারে সিরিয়াস। একদিনে সর্বাধিক ডাউনলোডকৃত সফটওয়ার হিসেবে ফায়ারফক্স গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন করার পরিকল্পনা করছে। ফায়ারফক্স নতুন ভার্সনের মুক্তির প্রথম দিনটি “ডাউনলোড ডে” পালন করবে। প্রথম চব্বিশ ঘণ্টায় সবাইকে এক কপি করে ফায়ারফক্স ডাউনলোড করতে অনুরোধ করেছে। মজিলা বেশ রসকষ দিয়েই লিখেছে, “it’s that easy. We're not asking you to swallow a sword or to balance 30 spoons on your face, although that would be kind of awesome.” (কি বুদ্ধি। এমন বুদ্ধি মাইক্রোফট, ইয়াহু কারো আসল না কেন? আফসোস! )
জনপ্রিয় ব্রাউজার ফায়ারফক্সের ভক্ত আমি কোন কালেই ছিলাম না। সেই মোগল আমলে স্কুল জীবনে Netscape Navigator ব্যবহার করতাম। ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত অন্য সবার মত Internet Explorer। “দেখি ত কেমন ব্রাউজার” কৌতূহলী হয়ে হঠাৎ Avant Browser ডাউনলোড করেছিলাম। প্রথম দর্শনেই প্রেমে পড়ে গেলাম। সেই থেকে এখনো Avant ব্যবহার করি। ব্রাউজার নিয়মিত আপডেট করি। মাঝে মাঝেই Opera, Firefox থেকে শুরু করে এপেল সাফারি, Flock সব কিছুই ব্যবহার করেছি কিন্তু এভান্টের মত মজা আর তৃপ্তি কোথাও পাই নি।
মজিলা ফায়ারফক্স কবে বিশ্ব-রেকর্ড করতে চায় সেই দিনক্ষণ পরিষ্কার করে কিছু বলছে না। আগে তারিখ ঠিক করে তারপরে বিশ্বরেকর্ড গড়ার কথা বলাই কি উচিত না? একেবারে বলে দিলেই হয় অমুক তারিখ রিলিজ হবে আগ্রহীরা এসে ডাউনলোড করে নাও। তা নয় শুধুমাত্র তারিখ জানতেই নিজের দেশ আর মেইল ঠিকানা দিয়ে আবেদন করতে হবে। ওরা মেইল করে পরে দিনক্ষণ জানাবে। এমন অভিনব বিজ্ঞাপন পন্থা দেখে চমৎকৃত হলাম। বিশ্বের মানচিত্র দেখছি আমেরিকার থেকে প্রায় দুই শত, অষ্টেলিয়ার থেকে ৫ জন আর বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন করে নি।
ফায়ারফক্স নতুন ভার্সন ছাড়লেই যে ইণ্টারনেট ব্যবহারকারী সবাই চোখ বন্ধ করে ইনস্টল করা শুরু করবে না সেটা মোজিলাও জানে। আমি নিজেও কোন সফটওয়ার পিসিতে ইনষ্টল করার আগে ডাউনলোড ডটকমে খুব ভাল ভাবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের রিভিউ পড়ে তবেই ইনষ্টল করি। আবার অনেকেই দেখি কোন কারণ ছাড়াই ভার্সন 2.0 বা 3.0 থেকে 2.0.1 বা 3.1 বা 3.0.1 নামাতে পছন্দ করে। কারণ যতই আলফা বিটা করুক প্রথম রিলিজে বাগ থাকতে বাধ্য। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেখানে নতুন মডেলের আইপড পর্যন্ত দোকানে আসার আগের দুই তিন দিন আগেই কিন্তু সেই দোকানে নতুন হরেক রকম কভার, নতুন মডেলের জন্য প্রয়োজনীয় Accessories সব কিছুই কিন্তু বাজারে চলে আসে। ব্রাউজার ব্যাপারটাও এখন অনেকটা এই রকম। স্বতন্ত্র ব্রাউজার এখন আর কেউ ব্যবহার করে না। এর সাথে ব্যবহার করি হরেক রকম প্রয়োজনীয় এ্যাডঅন। মুক্তির আগে তাই তৈরি করে রাখতে হয় তার জন্য হরেক রকম ব্রাউজার এ্যাড অন। বিভিন্ন এ্যাড অন যেমন গুগল টুলবার, স্ট্যাম্বলআপন টুলবার নানা স্ক্রিন, থিম আরো অনেক কিছু। কিন্তু এইগুলো বেশীর ভাগিত থার্ড পার্টি আপ্লিকেশন। এই সব কিছু না থাকলে শুধুমাত্র ফায়ারফক্স ভার্সন কে ব্যবহার করতে চাইবে?
একদিনে সর্বাধিকারী ডাউনলোডকৃত সফটওয়ার হিসেবে বিশ্ব-রেকর্ড মত অভিনব রেকর্ড আগে কোন দিন শুনি নি। গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিশ্চয়ই চারটি খানি কথা নয়। বিশ্ব-রেকর্ড গড়তে আগে অফিসিয়ালি আবেদন করতে হয়, গিনেজ বুক থেকে নির্বাচিত বিচারক থাকে। তারা পরীক্ষা করে দেখবে আসলে রেকর্ড হয়েছে কিনা। অনুমোদন দিলেই তবে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস থেকে অথেনটিক সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। বুঝতে পারছেন আর যাই হোক বিশ্ব-রেকর্ড গড়া বিশাল একটা ব্যাপার।
এই নিয়ে একটা মজার কাহিনী বলি। তখন সবে মাত্র এখানে এসেছি। যাই দেখি তাতেই একেবারে একেবারে মুগ্ধ। একটা গ্রামের মাঝে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছি হঠাৎ রাস্তার পাশে দেখি বড় করে লেখা পৃথিবীর সব থেকে বড় পানি টেঙ্কি। আমি আগ্রহ নিয়ে ব্যাক গিয়ার করে গাড়ি পেছন নিলাম। বিশাল সাইনবোর্ড স্পষ্ট করে লেখা Place of Interest সাইন দিয়ে তীর চিহ্ন দেওয়া এই দিকে দুই কিমি দূরে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত পৃথিবীর সব থেকে বড় পানির টেঙ্কি। আমি আমার পাশে বসা মিশেলকে বলি চল দেইখা আসি। জীবন আর কিছু না হোক অন্তত নাতি পুঁতিকে বলতে পারব আর কিছু না পারি সব থেকে বড় পানির পৃথিবীর টেঙ্কি অন্তত দেখেছি। মিশেলের খুব একটা উৎসাহ দেখলাম না। চোখ পাকিয়ে বলল এটা দেখার কি আছে? আমি বললাম অবশ্যই আছে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বলে কথা। যাক অম্প কিছুক্ষণ গাড়ি চালিয়ে একটা ছোট ফার্মে চলে আসলাম। এখানে আর যে কোন দশটা খামার বাড়ি মতোই। বাড়ির সামনেই মাঝারি আকারের পানির টেঙ্কি। এমনকি আমাদের চট্রগ্রামে বাড়ির সামনের ডিসী হিলের পানির ট্যাঙ্কির চেয়েও ছোট। এখানেও বোর্ডে বড় করে লেখা গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত পৃথিবীর সব থেকে বড় এবং উঁচু পানির টেঙ্কি। কিন্তু নিচে ব্র্যাকেট ছোট করে লেখা কাঠের তৈরি তিন খুঁটিওয়ালা। এবার পুর বিষয়টি পরিষ্কার হল। আমার মাথায় ঢুকছে না ইট সিমেন্ট , কনক্রিট, স্টীল এত কিছু থাকতে কাঠের পিলারে তৈরি পানির টেঙ্কি কেন বানানো দরকার? হয়ত সারা বিশ্বে এটাই একমাত্র তেপায়া কাঠের খুঁটী দিয়ে বানানো পানির টেঙ্কি সুতরাং ৫০ বিলয়ন লিটার হোক আর ৫০ লিটার হোক এটাই হবে রেকর্ড।
তাই যেহেতু এমন কোন রেকর্ড আগে হয়নি তাই ফায়ারফক্স চব্বিশ ঘণ্টায় পাঁচ মিলিয়ন কপি ডাউনলোড হলেও এটা নতুন বিশ্ব রেকর্ড পাঁচ কপি ডাঊনলোড হলেও এটা নতুন বিশ্ব রেকর্ড। মজিলাও একি সাথে ফায়ারফক্সের প্রচারণা করল আর চামতালে একটা ফাউ ফাউ বিশ্ব রেকর্ড করে ফেলল। ট্যাগ লাইন এখন আছে পুরস্কার বিজয়ী ব্রাউজার দুই দিন পড়ে নতুন ট্যাগ লাইন হবে বিশ্ব রেকর্ডধারী ব্রাউজার। হায়রে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস!
আজ তুমি আসবে বলে
আজ তুমি আসবে বলে,
টলটলে নীল আকাশটা ভরে গেছে সাদা মেঘে।
আজ তুমি আসবে বলে,
আগুন লেগেছে প্রিয় চট্টলার সবকটা কৃষ্ণচুড়ায়।
আজ তুমি আসবে বলে,
অসহ্য লাগছে না লোড-শেডিং, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।
মন্দ লাগছে না বন্দর নগরীর গা চিটচিটে অতীষ্ঠ গরম,
হাজারো মানুষের ভিড়ে তীব্র যানজট,
রাস্তার পাশের ময়লা ডাস্টবিনের উপরের
বাদামী ঘাড়ের দাঁড় কাকের কর্কশ ডাকও আজ কি মধুর।
আজ তুমি আসবে বলে,
সকাল থেকেই গুনগুন করছি অর্নবের নতুন গান।
আজ তুমি আসবে বলে,
ফাল্গুনের সাজে আজ আমি সাজব।
আজ তুমি আসবে বলে,
ঈদে মামার দেওয়া নতুন কামিজটা পড়েছি।
আয়নায় দাঁড়িয়ে কপালে নীল টিপ দিয়েছি,
ঠোটে হালকা হালকা লিপস্টিক,
মেখেছি ভাবির দেওয়া বিদেশি সেন্টের সুগন্ধ।
আজ তুমি আসবে বলে,
এলোমেলো লম্বা কলো চুল পিছনে ফেলে,
সুন্দর করে বেনী করেছি।
ভাবি আমায় দেখে হেসে বলল,
‘তোকে যা সুন্দর লাগছে না
একেবারে কাজল মাধুরী।
তোকে দেখে তার মাথা খারাপ হয়ে যাবে।’
দূর, আমার যে কি লজ্জা লাগছিল,
ইস তুমি যদি একবার দেখতে।
আজ তুমি আসবে বলে,
টিউশনি করে জমানো টাকায়
মুঠো ফোনে ক্রেডিট ভরিয়েছি।
আজ তুমি আসবে বলে,
মধ্য দুপুরে ছোট্ট গলি ধরে বেরিয়ে পড়েছি।
পাড়ার বকাটে ছেলেরা শিষ্ দিয়েছে,
কালো টিশার্ট পড়া গুন্ডা মত সেই ছেলেটা
পেছন থেকে নোংরা ইঙ্গিত করেছে।
না দেখার ভান করে হেঁটে গেলাম,
মাথা নিচু করে নিঃশব্দে,
না, আজ আমি মন খারাপ করব না।
আজ তুমি আসবে বলে,
তোমার জন্য উপহার নিয়ে এলাম
কবির একশ একটি নীল পদ্ম।
মনের অনেক অজানা কথা বলব আজ
বলব নিজের ভাল লাগার কথা,
ভালবাসার কথা।
আজ তুমি আসবে বলে,
লাইব্রেবীর সিড়িতে বসে থাকলাম সারাটা বিকেল
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম সামনের রাস্তায়।
এই বুঝি তুমি এলে, এই এলে।
ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে চারটা বাজল, পাঁচটা বাজল, ছয়টা বাজল,
আমার কেন জানি খুব কান্না পাচ্ছে।
দেখতে দেখতে পুরো শহরে অন্ধকার নেমে এল,
তুমি এলে না।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করা সেক্টর কমান্ডার
১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচলনায় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র ভূখন্ডকে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র বা সেক্টরে ভাগ করা হয়।
এম এ জি ওসমানী (সর্বাধিনায়ক)
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার (উপ প্রধান সেনাপতি)
লে.কর্নেল আবদুর রব(উপ প্রধান সেনাপতি)
১নং সেক্টর
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত
সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) (এপ্রিল- জুন)
সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) (জুন - ডিসেম্বর)
২নং সেক্টর
নোয়াখালী জেলা, কুমিল্লা জেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষ
সেক্টর কমান্ডার মেজর এ.টি.এম হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)
সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)
৩নং সেক্টর
সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ
সেক্টর কমান্ডার মেজর কেএম শফিউল্লাহ (বীর উত্তম) (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর),
সেক্টর কমান্ডার মেজর এ.এন.এম নুরুজ্জামান (বীর উত্তম) (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)
৪নং সেক্টর
সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত
সেক্টর কমান্ডার মেজর জে: সি আর দত্ত (বীর উত্তম)
৫নং সেক্টর
সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল
সেক্টর কমান্ডার মেজর মীর শওকত আলী (বীর উত্তম)
৬নং সেক্টর
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
উইং কমকান্ডার খাদেমুল বাশার
৭নং সেক্টর
দিনাজপুর জেলার দক্ষিনাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা জেলা
সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হক ( অগাস্ট পর্যন্ত )
সেক্টর কমান্ডার মেজর কাজী নুরুজ্জামান (বীর উত্তম)
৮নং সেক্টর
সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুরের অধিকাংশ এলাকা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশ
সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল- আগস্ট),
সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ মুঞ্জুর (বীর উত্তম) (আগস্ট-ডিসেম্বর)
৯নং সেক্টর
দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিনাঞ্চল এবং সমগ্র বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা
সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল মিঞা (এপ্রিল-ডিসেম্বর প্রথমার্ধ),
সেক্টর কমান্ডার মেজর জয়নুল আবেদীন ( ডিসেম্বর এর অবশিষ্ট দিন)
১০নং সেক্টর
কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা গঠিত। শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত।
১১নং সেক্টর
কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল
সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু তাহের (বীর উত্তম) (আগস্ট-নভেম্বর),
সেক্টর কমান্ডার স্কেয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ (নভেম্বর-ডিসেম্বর)
টাংগাইল সেক্টর
সমগ্র টাংগাইল জেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও ঢাকা জেলার অংশ
কাদের সিদ্দিকী।
সেক্টর কমান্ডার ফোরাম
চিত্র সমালোচনাঃ ব্রিক লেন

ব্রিক লেন’ উপন্যাসের লেখক বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট মনিকা আলি। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৩ সালে। ম্যান বুকার পুরস্কারের শর্ট লিস্টে মনিকা আলি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেখক। ‘ব্রিক লেন’ নিয়ে বাংলাদেশে ও অন্য জায়গার বাংলাদেশি কমিউনিটির মাঝে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
২০০৬ সালের শুরুতে শুনেছিলাম সারা গেভরন ব্রিক লেন উপন্যাস অবলম্বনে একটি চলচিত্র রুপান্তরিত করছে। সেই বছরেই আগস্টে আমরা ইণ্টারনেটের মাধ্যমে জেনেছিলাম ব্রিক লেন চলচিত্র তৈরীর প্রতিবাদে লন্ডনের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ প্রতিবাদ করছে। তাদের অভিযোগটি ছিল গুরুতর, উপন্যাসটিতে নাকি বাংলাদেশের লন্ডনের কমিউনিটিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তথাপি উপন্যাসটি পড়ে আমার কখনও এমন মনে হয়নি। রাগান্বিত প্রতিবাদকারীর কয়জন প্রকৃতপক্ষে উপন্যাসটি পড়েছেন তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
যুক্তরাজ্যে ‘ব্রিক লেন’ প্রিমিয়ার হয়েছে ২৬ অক্টোবর, ২০০৭। প্রায় পাঁচ মাস পড় ব্রিক লেন গতকাল ২০শে মার্চ অষ্টেলিয়াতে প্রিমিয়ার হয়েছে। বাসা থেকে সিনেমা প্যালেস কোমো মাত্র সাত মিনিট হাটার পাথ। হলের দরজার সামনে বড় বড় পোষ্টারে বাংলাদেশের গ্রামের ধানক্ষেতে ছুটে চলা কিশোরিকে দেখেই নিজের শৈশবের কথা মনের পড়ল। গুড ফ্রাইডে ছুটি থাকায় কারনেই হোক আর প্রমিয়ার শো হবার কারনেই হোক মুভি থিয়েটার ছিল প্রায় পূর্ণ। দর্শকের অধিকাংশই অষ্ট্রেলিয়ান। হাতে গোনা তিন চারটে বাঙ্গালি পরিবারও দেখলাম।
আমি মাত্র কিছু দিন আগেই ব্রিক লেন বইটি পড়ে শেষ করেছি। কোন বই পড়ে মুভি দেখতে গেলে আমার একটা বড় সমস্যা হয়। কেন জানি নিজের কল্পনার জাল বুনে নিজের মনের মাঝেই একটা ছবি বানিয়ে ফেলি। নিজের মনের ছবির সাথে বাস্তবে মিল না পেলেই হতাস হই। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ছবির শুরুটা আমার একেবারেই ভাল লাগে নি।
অবশ্যই মুভি শুরু হয়েছে মুল চরিত্র নাজনিনের ( তানিস্থ চট্টোপাধ্যায়) বাংলাদেশের গ্রামের শৈশবের দৃশ্যাধারণ দিয়েই। নাজনীনের বেড়ে উঠা, ধানের ক্ষেতে ছুটে চলা, পুকুরে সাতার কাটা, বৃষ্টিতে ভেজা, বন্ধুদের সাথে খেলা করা, নাজনীনের মার পুকুড়ে ডুবে আতহত্যা, নাজনীনের বাল্য বিবাহ এত কিছু সব মাত্র ৪- ৫ মিনিটে দেখিয়েছেন। এভাবে তাড়াহুড়া করে দেখানোর কোন দরকার ছিল না। আমি জানি বড় একটা বইকে ১০১ মিনিটে দেখাতে গেলে কিছুটা কাটছাট করতেই হবে। কিন্তু পরিচালক সারা গেভরন হয়ত মুল কাহিনীর উপর অধিক মাত্রায় সিনেমাটিক লাইসেন্স নিয়ে ফেলেছেন। উপন্যাসের শুরুর দিকের ঘটনা, নাজনীনের বেড়ে উঠা, তার বিবাহ আরো বিস্তারিত করে দেখানো উচিত ছিল। নাজনীনের সাথে চানুর (সতিশ কৌশিক) বিবাহ যেভাবে দেখানো হয়েছে যারা বইটি পড়েন নি সে সব বিদেশীদের কাছে অদ্ভুত এবং অবিশ্বাস্য লাগবে। নাজনীনের সাথে তার ছোট বোন হাসিনার সাথে তার সম্পর্কটা আরো গভীর ভাবে দেখানো জেত। হাসিনার চরিত্র মুল উপন্যাসে অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন। নাজনীনের আবেগ, আদর্শ, বোনের প্রতি তার ভালোবাসা, নিজের ফেলে আশা গ্রামের প্রতি তার পিছুটান ইত্যাদি বইটি থেকে মুভিতে বিশ্বাসযোগ্যভাবে অ্যাডাপ্ট করার জন্যই ৪-৫ মিনিটের স্থানে অন্তত ১৫- ২০ মিনিট ফুটেজ দাবী রাখে।
ছবির টাইটেল, অভিনেতাদের নাম দেখাতে দেখাতেই নাজনীন দুই টিনেজ মেয়ে সাহানা আর বিবির মা আর চানু আহমেদের আদর্শ পত্নি। চানু আহমেদ তার দুই মেয়ে আর পত্নি নিয়ে পুর্ব লন্ডনের ব্রিক লেনে বসবাস করেন। ব্রিক লেন ইস্ট লন্ডনের ঘিঞ্জি এলাকা। চানু তার আর্থিক দৈন্যতার কারনে একটা নোংরা অ্যাপার্টমেন্টের পুর্ব প্রান্তের সস্তা দুই রুমের ছোট ফ্লাটে থাকেন। চানু আহমেদ আর নাজনীনের বয়সের অনেক পার্থক্য। নিজের পরিবারের আয় বাড়ানোর জন্য নাজনীন বাড়িতেই মেশিন কিনে সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। প্রতি কাপড় সেলাই করে সে এক পাউন্ড পায়। সে কল্পনা করে এভাবে অম্প অম্প করে পাউন্ড জমিয়ে যে তার প্রিয় বাংলাদেশে আসবে। তার ছোট বোন হাসিনাকে দেখতে যাবে। ১৭ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে আসার পর সে একবারের জণ্য হলেও হাসিনাকে দেখে নি। হাসিনার সাথে তার সব সময় চিঠিপত্র আদান প্রদান হয়। নিজের মনে সব কথা, সব স্বপ্ন নাজনীন হাসিনাকে লিখে পাঠায়।
সেলাইয়ের কাজ করতে গিয়ে দেখা হয় করিমের( ক্রিষ্টোফার সিম্পশন) সাথে। করিম ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী আধুনিক, হেন্ডসাম, পরিশ্রমি যুবা। নাজনীনের সমবয়সি ও স্থানীয় কাপড়ের ব্যবসায়ি। তাদের মাঝে একটা সম্পর্ক তৈরী হয়। করিম স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির এখন উঠতি নেতা। করিম চায় নাজনীন চানুকে তালাক দিয়ে তার সাথে বাস করতে। এর মাঝেই ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলা হল। স্থানীয় সমাজে একটা দাঙ্গা হবার আশঙ্কা দেখা দিল। এর মাঝেই চানু সিদ্ধান্ত নিল সে আর এই দেশে থাকবে না পুরো পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত যাবে। বইটি না পড়ে থাকলে ছবির শেষ অংশটি অপ্রতাশিত মনে হওয়া খুবি স্বাভাবিক।
মুভিটির চিত্রায়ন হয়েছে ভারত ও লন্ডনের নানা স্থানে। মুভিতে নাজনীন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানিস্থ চ্যাটার্জি, চানু চরিত্রে অভিনয় করেছেন সতিশ কৌশিক। এই ছবিটি একেবারেই তানিস্থা চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। তানিস্থা ভারতীয় থিয়েটার গুনি অভিনেতা। শুনেছি সে দুই একটা হিন্দি মুভিও করেছে। সফল ভাবেই জটিল একটা চরিত্র আভিনয় করেছে। তার সাধাসিধে ইংরেজী উচ্চারন একেবারেই চরিত্রের নাজনীনের সাথে মিশে গেছে। ব্রিক লেন দেখে মনেই হয়নি সারা গেভরন পরিচালিত প্রথম ছবি। সারা গেভরন এত ঝড় ঝাপটার মাঝেও ছবিটি যত্নশীল হয়ে সমাপ্ত করেছে তার জন্য তার বাহাবা প্রাপ্য।
ভাল লাগে নি
১। নাজনিনের শৈশব আরো ফুটেজ দেওয়া উচিত ছিল। ( অন্তত আমার কাছে মনে হয়েছে)
৩। হাসিনার চিঠি পড়ার সময় ইংরেজীতে পড়ানো হয়েছে। হাসিনা বাংলাদেশে থাকে তার ইংরেজ়ি চিঠি লেখার কোন কারন নেই। বাংলায় পড়ে নিচে ইংরেজী সাবটাইটেল দিলেই হত।
২। বিরতির আগের ১৫ মিনিটের গতি খুব ধীর ছিল।
ভালো লেগেছেঃ
১। কাহিনী এবং সংলাপ।
২। চমৎকার আবহ সঙ্গিত ( জোসেলিন পোককে এত দিন শুধুমাত্র প্রতিভাবান ভায়োলিন বাদক হিসেবেই চিনতাম।)
৩। তানীশা চট্টোপাধ্যায়, ক্রিষ্টোফার সিম্পশন,সতিস কৌশিকের অনবদ্য অভিনয়।
৪। অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফি।
আমি ব্রিক লেন মুভিটিকে সাড়ে ৩ ষ্টার দিলাম ( ৫ এর ভিতর)
ব্রিক লেন অফিসিয়াল ওয়েব সাইট
ব্রিক লেন মুভি ট্রেইলার
সিডর দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান
ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ আক্রান্ত দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদ বিরান ভুমিতে পরিনত হয়েছে। বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ভোলা, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, চাঁদপুর এখন যেন ভয়াল মৃত্যুপুরী। আজকের পত্রিকা অনুসারে মৃতের সংখ্যা ২৬০৮। আজ তিন দিন পড়েও প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার হচ্ছে। বেসরকারি ভাবে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। লাখ লাখ দুর্গত অসহায় মানুষ এখন জীবন বাঁচাতেই লড়ছে।
অবর্ণনীয় এক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিস্তীর্ণ উপকুলীয় অঞ্চল। দুর্যোগে বিপর্যস্ত লক্ষাধিক মানুষ এখন আশ্রয়হীন। খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ এক মুঠো খাবার জন্য বুভুক্ষু। সবখানে খাবার পানির তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সহায়-সম্বলহীন মানুষের ঘরের কোন কিছুই আজ আর অবশিষ্ঠ নেই। অসহায় শিশুরা রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। চারিদিকে মহামারি ছরিয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ ও আমাশয়ের প্রাদুর্ভাব। খোলা আকাশের নিচে বিপর্যস্ত মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। লজ্জা নিবারণের এক টুকরো বস্ত্র কোন রকম গায়ে জরিয়ে খোলা আকাশের নিচে শীতার্ত মানুষরা ঠাণ্ডায় কাপছে । স্বজনের লাশ দাফনের জন্য সাদা একটুকরা কাফনের কাপড়ও তাদের নেই। উপকূলীয় জনপদে চারদিকে শুধু হাহাকার আর শোকের মাতম। স্বজনহারা, আশ্রয়হীন ক্ষুধার্ত মানুষের গগনবিদারী করুণ আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ বিপর্যস্ত মানুষের পাশে এসে দাড়ান। দেশের এ মহা বিপদে নিয়ে এগিয়ে আসুন। নিচে আপনাদের জণ্য আর্থিক সাহায্য পাঠানোর কিছু লিংক দিলাম। প্রবাসী এবং দেশের সব মানুষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য যে যা পারেন তাই নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। আপনার দেওয়া সাহায্যের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে অগণিত দুর্গত মানুষ।
বাংলাদেশ থেকে সাহায্য করতে চাইলে
জাতীয় ত্রাণ কমিটি
সঞ্চয়ী হিসাব নং: জাতীয় ত্রাণ কমিটি, নং-১১-৯৭৬৫,
উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড,
সাতমসজিদ রোড শাখা,
ধানমন্ডি,
ঢাকা।
প্রধান উপদেষ্টা ত্রান ও কল্যান তহবিল
Chief Adviser’s Relief & Welfare Fund
Current Account No. 33004093
Sonali Bank, Prime Minister’s Office Branch
Tejgaon, Dhaka
ওয়েব সাইট
বাংলাদেশ রেড-ক্রিসেন্ট সোসাইটি
Bangladesh Red Crescent Society
A/C No. 01-1336274-01
Standard Chartered Bank
Dhaka Bangladesh
SWIFT Code: SCBLBDDX
ওয়েব সাইট
প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডে আর্থিক সাহায্য পাঠাতে চাইলে
The International Federation of Red Cross and Red Crescent Societies
ওয়েব সাইট
World Vision Bangladesh Cyclone Relief
ওয়েব সাইট
Support Save the Children's Response to the Cyclone in Bangladesh
ওয়েব সাইট
The Mahmood Memorial Fund
Association for Bangladeshi Students
Virginia Tech
Blacksburg, Virginia 24061
ওয়েব সাইট
অন্যান্য সরকারী ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা
Ministry of Food and Disaster Management, Government of the People's Republic of Bangladesh
ওয়েব সাইট
The UN Office for the Coordination of Humanitarian Affairs (OCHA)
ওয়েব সাইট
Oxfam
ওয়েব সাইট
CARE Bangladesh
ওয়েব সাইট
বৃষ্টির জলে হাত ভিজাই ( তৃতীয় পর্ব )
১
অথৈ খুব বিরক্ত। ঈদের ছুটিতে বছরে এই একবার বরিশাল যাওয়া হয়। ছোট ভাইয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষা কারণে মা ঢাকা ঈদ করবেন। বাবা নির্বাচনের আগে ঈদ না পড়লে ঢাকাতে থাকেন। তাকে একা একা এত দূরে জেতে হবে। দাদু বাড়িতে একা থাকে। কিন্তু পরে দাদু বাড়ি যাবার লোভ সাম্লাতে পারাও কষ্টকর। দাদুর সব সময় একা একা ঈদ করে। খুব মন খারাপ হয়। কোথায় একা যাত্রা করাটা খুব বিরক্তিকর। পাশে কারো সাথে কথা বলার কেউ নেই।
অথৈ ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইংরেজিতে থেকে মাত্র অনার্স পাশ করেছ। বাবা একজন উচ্চ পদস্থ ব্যক্তি। বাংলাদেশের ভিআইপিরা ক্ষমতা জোড়ে অনেক অসাধ্য করে ফেলে। গতবার অথৈ যখন বন্ধুদের সাথে ছুটিতে বান্দরবান গেল তাদের প্ল্যান ছিল চিম্বুক পাহাড়ে যাবার। কিন্তু বান্দরবান গিয়ে মনে হল এত কাছে এসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওকারাডং দেখবে না। তাই কি করে হয়? কেওকারাডং নাকি সরাসরি গাড়িতে যাওয়া যায় না। গাড়িতে কাছাকাছি গিয়ে ঘণ্টা দেড়েক ট্রাকিং। ট্রাকিং করে পাহাড় চড়বে। কি মজা হবে। কিন্তু বাবা আগের রাতে মোবাইলে নিষেধ করে দিলেন।
“ট্রাকিং করা এত সোজা নাকি। আমি মনটানাতে একবার ট্রাকিং করেছিলাম। পানি বোতল আর ব্যাগ নিয়ে পাহাড় চড়া কি বাচ্চা খেলা। এত উচুতে উঠতে হয় । অভ্যস্ত হতে হয়। একজন মেয়ে ট্রাকিং করে পাহাড়ে চড়বে পথে কত বিপদ হতে পারে ।” তার হয়ত জীবনেও আর কখনই কেওকারাডং উঠবার সুযোগ হবে না। ইশ ছেলেদের কত মজা। তারা যখন যা চায় তাই করতে পারে। আর মেয়ে হলে পদে পদে ছাড় দিতে হয়। পরের দিন বাবা ফোন ঘুরিয়ে হেলিকাপ্টারের ব্যবস্থা করে দিলেন। ৩ হাজার ফুট উচতে কি সুন্দর লাগল। কি সুন্দর ধোঁয়া ধোঁয়া ধোঁয়াশা চারদিকে। অথৈ ভেবে রেখেছে তার যদি কখনও বিয়ে হয়। সে অবশ্যই স্বামিকে নিয়ে এখানে আবার আসবে। এক হাতে ওর হাত শক্ত করে ধরে অন্য হাত বাড়িয়ে মেঘ ধরবে।
ঢাকা বাস স্ট্যান্ড নামিয়ে দিতে সাদেক আহমেদ এসেছে। সাদেক আহমেদ বাবার ব্যক্তিগত সহকারী। লেখাপড়া এমকম পাস। সব সময় সব কিছুতে সে বাহাদুরি দেখাবে। বাস স্ট্যান্ড এসে সে কিছুক্ষণ যথারীতি হৈচৈ করল। কৃষি প্রতিমন্ত্রী মেয়ে বাসে উঠবে। ফোন করে একদম সামনের জানালা পাশের সিট দিতে বলা হয়েছে। পাশে সিটে মহিলা যাত্রিকেই টিকিট বিক্রি করতে বলা হয়েছে কিংবা মহিলা না থাকলে দরকার হলে সিট খালি যাবে। প্রতিমন্ত্রী মেয়ে বলে কথা। কিন্তু কীভাবে জানি ভুল করে একজন পুরুষকে টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। যাকে টিকিট বিক্রি করা হয়েছে সেই পাশে উদাস ভাঙ্গিতে কাউন্টারের সামনেই দাঁড়