| 0 টি মন্তব্য ]

আশি দশকের শুরুতে কোন এক গ্রীষ্মকাল। চাপা উত্তেজনা চলছিল স্বর্গলোক “ মানুষ সৃষ্টি ল্যাবরেটরিতে ” । “প্রো-অমি গ্রুপ” এর পক্ষ থেকে স্বর্গের জাতীয় সংসদ ভবনে‌ “একটি নিখুঁত আদম সন্তান জন্ম দেওয়ার বিল পাশের জন্য প্রস্তাবনা করা হল। কিন্তু সংসদের বিরোধী দল “এন্টি অমি গ্রুপ” এর সকল দুষ্ট দেবতা এই বিলের এর চরম বিরোধিতা করল। “মাননীয় সংসদ, ভূমন্ডলে আমরা যতই অর্থ ব্যয় করি না কেন, সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রচেষ্টা করি না কেন নিখুঁত আদম সন্তান জন্ম দেওয়া কখনই সম্ভব না।”

দীর্ঘ দিবা দীর্ঘ রজনী অনেক তর্ক-বিতর্ক, একাধিক ওয়াকআউট, উত্তপ্ত আলোচনা পরে অবশেষে ঈশ্বর বিল পাশে সম্মত হল। ঈশ্বর জরুরী ভিত্তিতে বিশ্বকর্মাকে ডাক দিলেন। “ হে বিশ্বকর্মা, আমি এই শিশুর জন্য আমি ভুতলের সব থেকে সর্বৎকৃষ্ট দেশ , সব থেকে মধুর ভাষা এবং শ্রেষ্ঠ লালন-পালনকারী চাই।” সেই ইচ্ছা অনুযায়ী শ্রেষ্ঠ দম্পতি খুঁজে তাদের পিতা মাতা নির্বাচন করা হল। বাংলাদেশ নামক পৃথিবীর সব থেকে অপরূপ দেশ নির্বাচন করা হল। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হল “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ”।

“আমরা চূড়ান্ত করেছি যে প্রজেক্ট আভাটার ফাইভে যেই শিশু জন্ম হবে দেখতে খুবই সুদর্শন হবে, যখন সে প্রাপ্ত বয়স্ক হবে তাই উচ্চতা হবে পাঁচ ফুট ১১ ইঞ্চি।” প্রকল্পের প্রধান নকশাবিদ এবং বিভাগীয় প্রধান মাননীয় বিশ্বকর্মা সংবাদ সম্মেলনে বলেন। সাংবাদিকদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি সম্মেলনে অধিক তথ্য ফাঁস করতে চাইলেন না। ঘন্টার পড় ঘণ্টা অনেক আলোচনা, বিতর্ক শেষে অবশেষে “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” প্রকল্পের মানব সন্তানের নাম নির্বাচন করা হল।

“তাকে আমরা সবাই ইরতেজা বলে ডাকব,” স্বর্গলোকের প্রধান দৈনিক “হেভেন টাইম” এর শিরোনামে বড় বড় লাল কালিতে লেখা হয়েছিল কথাটা।


কিন্তু “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” ব্যর্থ করতে “এন্টি অমি গ্রুপ” এর দুষ্ট দেবতারা পৃথিবীতে সাঁড়াশী অভিযান চালাল। তারা ঘাতক রূপী ম্যালেরিয়া জ়ীবানুবাহী মশা পাঠাল। সেই এনোফিলিস মশা সন্তানের ভ্রূণ ধারণকারী গর্ভবতী মা জনাবা মনোয়ারাকে দংশন করে। নবজাতকের জন্মে আগ মুহূর্ত বরিশাল গোরস্তান রোডের ছোট্ট নড়বড়ে ঘরের আশেপাশের প্রতিটা মানুষ কি প্রচণ্ড স্নায়বিক চাপ অনুভব করেছিল। নির্ধারিত সময়ে তিন সপ্তাহ আগে অপরিপক্ব শিশু জন্ম হল। জনাব আলী তার সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তান দেখে কষ্টে প্রায় আর্তনাদ করে উঠলেন। নানা-নানী সৃষ্টিকর্তা কাছে প্রার্থনা করে চোখের জল ফেলিল।

চিকিৎসাকারী বলিল IUGR সন্তান জন্ম নিয়েছে। এই শিশু খুব কম আয়ু নিয়ে আসে আর যদি ইশ্বরের কৃপায় বেঁচে যায় তারা হয় কুৎসিত কদাকার। এদের স্থায়ী শারীরিক এবং মানসিক অক্ষমতা থাকে।

একের পর এক বিপদ আসতে থাকল। জন্মের অল্প দিনে ঠাণ্ডা বুকে কফ জমে অসুস্থ হয়ে পড়ল। কিছু দিন পড়ে খেলার ছলে বিছানা থেকে পড়ে নিজের বাম হাত ভেঙ্গে ফেলল। মাত্র এক বছর বয়সী শিশুটির জলবসন্ত হল। প্রায় এক সপ্তাহ শিশুটির মা দিবা রাত্রি নিজের আঁচলে ঠেকে গভীর মমতাময় বসে রইলেন।

অলৌকিক ঘটনা বলুন বা “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” প্রকল্পের দলের অসাধারণ কাজের জন্য বলুন সেই কঙ্কালসার বচ্চাটি দিনে দিনে বেড়ে উঠল। স্বাস্থ্যবান হল, বিদ্বান্‌ হল, মেধাবী হল। ঠিক যেভাবে বিশ্বকর্মা চেয়েছিল ছেলেটা ঠিক সেভাবে। কিন্তু গল্প এইখানে শেষ নয়। ...

অনেকেই বলে “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” কিছু ত্রুটি আছে, তাদের প্রধান যুক্তি হচ্ছে , এই মানবের একটি নির্দিষ্ট জীবিকা নির্বাচন করা হয় নি। তাকে বলা হয়নি সে বড় হলে কি হবে। তার বাবা সাংবাদিক বা কলেজে শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও ছেলেটা পেশাজীবী হতে চায় না।এই ছেলেটা আসলে চলচ্চিত্র পরিচালক হতে চায়। ছেলেটা লিখতে আর বাংলা ইংরেজি বই পড়তে খুব পছন্দ করে। ছবি আঁকতে পছন্দ করে। প্রজেক্টে আরো অনেক বাগ পাওয়া গেল। “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” স ফল মনে হলেও একবার নয়, দুই দুইবার জীবনে প্রেম ভালোবাসায় দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে। ছেলেটা খুবই আত্ম ভোলা, কিছুটা অলস, কখনো কখনো খুবই উদ্ধত্যপুর্ন।

তাহলে কি “প্রজেক্ট আভাটার ফাইভ” এ অতিমাত্রায় ভুল আছে? এতে কি “এন্টি অমি গ্রুপ” এর হাত আছে ? আসলে কি নিখুঁত মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। শুধু মাত্র সময় আমাদের সেটা বলে দিবে।

0 টি মন্তব্য

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন