| 1 টি মন্তব্য ]

এক গ্রামে একজন পরিশ্রমী মানুষের কাছে দুটি বড় কলসী ছিল। সেই ব্যক্তি প্রতিদিন কলসী দুটো একটি শক্ত লাঠির দুটি আলাদা আলাদা প্রান্তে বেধে কাঁধে তুলে পানি বহন করত। একটি কলসীতে একটু ফাটল ছিল, নদী থেকে বাড়িতে আসার লম্বা পথে ফাটল ধরা কলসীর ফুটো দিয়ে চুয়ে চুয়ে জল পড়ত । বাড়ি আসতে আসতে অর্ধেক কলসী খালি হয়ে যেত। অন্য দিকে অপর কলসী ছিল একদম অক্ষত এবং সব সময় পূর্ণ জল বহন করত।

প্রায় দুই বছর ধরে এই ভাবেই বাহক প্রতিদিন তার বাসায় দেড় কলসী জল আনে। এই নিয়ে নিখুঁত কলসী খুব গর্ব। সে ভাঙ্গা কলসী দিকে ব্যঙ্গ করে বলে, “ দেখ আমাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে আমি তা যথাযথ পালন করতে পেরেছি। আমার জন্ম সার্থক।”

অন্য দিকে অসহায় ফাটল ধরা কলসী ভাবে তার জন্ম যে উদ্দেশে নিয়ে হয়েছিল আমি তার অর্ধেক কাজ করতে পেরেছি। দুর্ভাগা কলসী দুই বছর ধরে প্রতিদিন নিজের ত্রুটিবিচ্যুতি জন্য ভাগ্যকে দোষারোপ করল।

একদিন সে তার মালিকের সাথে কথা বলল, “আমি নিজেকে নিয়ে খুব লজ্জিত। আমার কলসী মাঝখান একটা ছোট ছিদ্র আছে। সেখান থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। বাসায় আসার আগেই আমি অর্ধেক খালি হয়ে যাচ্ছি । আমি তোমার কাছে ক্ষমাকারী।”


মালিক তখন বলল, “ তুমি কি খেয়াল কর নি, রাস্তার এক পাশে ফুল গাছের সারি , আর অন্য পাশে কোন ফুল গাছ নেই। ফুল গাছ শুধু মাত্র রাস্তার সেই পাশে যেখান দিয়ে রোজ তুমি আস। এর কারণ আমি সব সময় তোমার ফাটলের কথা জানতাম। তাই আমি যে দিকে তোমার বহন করি সেই দিকের পুরো রাস্তায় ফুলের বীচি বপন করেছি। আমরা প্রতিদিন যখন বাসায় আসি তুমি ফুল গাছগুলোকে পানি দাও। গত দুই বছরে আমি এই ফুল দিয়ে আমার টেবিল সাজিয়েছি। তুমি এখন যা আছ, যেভাবে আছ, এই আমার পছন্দ । তোমার এই অসম্পূর্ণতা না থাকলে আমার বাসা, আমার পরিবার এই সৌন্দর্য থেকে বাঞ্ছিত হত। ”

ঠিক একই ভাবে আমরা সবার একে অপরের থেকে ভিন্ন। কাউকে হয়ত আমাদের সফল বা কাউকে ব্যর্থ মনে হতে পারে। প্রতিটা মানুষ যে যেভাবে তাকে কি সেভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়? প্রতিটা মানুষের মাঝেই যেমন খারাপ দিক আছে তেমনি অনেক ভালো দিকও আছে। এই ভালো- মন্দ , সুখ-কষ্ট, প্রাপ্তি- অপ্রাপ্তি এই সব কিছু মিলে মিশে কিন্তু আমাদের জীবনকে সুন্দর এবং উপভোগ্য করে।

1 টি মন্তব্য

রাশেদ বলেছেন... @ 11/12/08

পড়ছি!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন