| 1 টি মন্তব্য ]


এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।

দুঃসহ এ বেদনার কণ্টক পথ বেয়ে
শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।

যুগের নিষ্ঠুর বন্ধন হতে
মুক্তির এ বারতা আনলে যারা
আমরা তোমাদের ভুলব না।

কৃষাণ-কৃষাণীর গানে গানে
পদ্মা-মেঘনার কলতানে
বাউলের একতারাতে
আনন্দ ঝংকারে
তোমাদের নাম ঝংকৃত হবে।

নতুন স্বদেশ গড়ার পথে
তোমরা চিরদিন দিশারী রবে।
আমরা তোমাদের ভুলব না।

বাংলা ভাষায় লিখিত সর্বশেষ্ঠ এই গানটি লিখেছেন শ্রদ্ধেয় গোবিন্দ হালদার। তিনি ভারতের আকাশবানী বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার ছিলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারে সম্প্রচারিত তার লেখা গানসমূহ মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতো। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রচিত উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, লেফট রাইট লেফট রাইট, হুশিয়ার হুশিয়ার, পদ্মা মেঘনা যমুনা, চলো বীর সৈনিক, হুশিয়ার, হুশিয়ার বাংলার মাটি অন্যতম।

আয়কর বিভাগে কর্মরত অবস্থায় বন্ধু কামাল আহমেদের অনুপ্রেরণায় এবং উৎসাহে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর গান রচনা করেন। কামাল আহমেদ তাকে স্বাধীন বাংলা বেতারের কর্ণধার কামাল লোহানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তার হাতে ১৫টি গানের একটি খাতা দেন। এ গান গুলোর মধ্যে স্বাধীন বেতারে প্রথম প্রচারিত হয় সমর দাসের সুরারোপিত পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে গানটি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই তার আরও কিছু গান স্বাধীন বেতারে সম্প্রচারিত হয়।

পাক বাহিনী আত্মসমর্থনের খবর পাওয়ার পর পর ই সন্ধায় ১৬ ই ডিসেম্বর প্রচারিত হয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে গানটি যা সুর দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ এবং মূল কণ্ঠ দিয়েছিলেন স্বপ্না রায় আরও কণ্ঠ দিয়েছিলেন আপেল মাহমুদ এবং সহশিল্পীরা।

কামাল আহমেদের লেখা গোবিন্দ হালদারঃ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে গানের অমর স্রষ্টা পড়তে পারেন। এই গানটির অনেক আজানা ইতিহাস জানতে পারবেন।

ক্লোজআপ তোমাকেই খুজছে বাংলাদেশ ২০০৮ এ লিজার গাওয়া এই গানটির ইউটিউব ভিডিও দেখতে পারেন।

স্বপ্না রায় এর কোরাসে গাওয়া গানটি এখানে শুনতে পারেন।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ফ্লিকার থেকে নেওয়া।
তথ্য সুত্রঃ উকিপেডিয়া

1 টি মন্তব্য

মিটুল বলেছেন... @ 29/12/08

জামায়াত-কে যারা সমর্থন করে তার দোযখে যাবে...............
কোরআন-এ আছে ইসলাম পালনে ৭৩টি ভাগ হবে যার ৭২টি-ই দোযখে যাবে। বর্তমানে আমাদের ইসলাম প্রচারে অনেকগুলি দল মত সমাজে দেখা যাচ্ছে। অথচ মূলদল ১টি হওয়া উচিৎ। সুতরাং এরাই সেই ৭২ দল। অপর দিকে আল্লাহ বলেছেন সব ধরণের পাপ ক্ষমা হতে পারে কিন্তু কয়েকটি পাপ মোটেও ক্ষমা করা হবে না। যার মধ্যে শিরক একটি। শিরক হচ্ছে সেই জিনিস যা আল্লাহর সাথে অন্য কোন শক্তি কে তার সমপরিমান বা বেশী শক্তি মনে করে। যেহেতু জামায়েত-ই ইসলামী দলটি প্রকাশ্য ইলামী আন্দোলনের কৌশল হিসাবে ঘোষণা করছে যে, ক্ষমতায় আসীন না হলে এদেশটি ইসলামী আদর্শে পরিণত করা যাচ্ছে না। সুতরাং এটি এক প্রকার শিরক যে, সরকার গঠন প্রক্রিয়াকে একটি আলাদা শক্তি মনে করছে যে ইসালম পালনে অপরিহার্য। অথচ আল্লাহ চাইলে সরকার গঠন নামক সাহায্য ছাড়াই আমাদের দিয়ে ইসলাম ধর্ম পালনের সব ব্যব্সথা করতে পারেন এই বিশ্বাস রাখা উচিৎ। যেমন তাবলীগ জামায়েতের বৈশিষ্ট্য-ই ধরা যাক। তারা বলছেন ক্ষমতায় আসীন নয় মানুষকে নামাজের পথে ডাকতে হবে অন্যান্য ইবাদতের পথে ডাকতে হবে আর আল্লাহ চাইলে তার হেদায়েত করবেন। সুতরাং সকল ক্ষমতা আল্লাহর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন