| 8 টি মন্তব্য ]

জামায়াতে ইসলামী এর ইতিহাস ও জন্মকথাঃ
পাকিস্তানের লাহোর শহরে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট তারিখ জামায়াতে ইসলামী এর প্রতিষ্ঠা। জামায়াতে ইসলামী এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মাওলানা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী।

উপমহাদেশ প্রায় দুই শত বছর ব্রিটিশদের কাছে পরাধীন থাকবার পর ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত স্বাধীনতা পায়। ১৯৪৭ এর আগে মুসলমান অধ্যুষিত এলাকার প্রায় সবাই (৯০ ভাগ বাঙালী সহ) দেশ বিভাগ এবং মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান সৃষ্টি পক্ষে ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ছিল পাকিস্তান তত্ত্বের ঘোর বিরোধী। জন্মের শুরু থেকে জামায়াতে ইসলামী চলেছে উল্টো স্রোতে। মাওলানা মওদুদী এমন একজন ইসলামী দলের রাজনৈতিক প্রধান যিনি সর্বপ্রথম বলেছিলেন মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের কোন প্রয়োজন নাই। (১)

১৯৪৭ সালে পাকিস্থান জন্মের পর জামায়াতে ইসলামীঃ
পাকিস্তান জন্মের অল্প সময় পরেই জামায়াত হয়ে গেল চরম পাকিস্তান প্রেমিক। যেন গিরগিটী রঙ বদলানোর আরো একটি উদাহরণ। মাওলানা মওদুদী তার পার্টি জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করার জন্য ধর্মের নামে একাধিক দাঙ্গা লাগিয়েছেন । তার নির্দেশ এবং মদদে পাকিস্তানে হাজার হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে।

১৯৫৩ সালে মাওলানা মওদুদী তার বই “Qadiani Problem” তে আহমেদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করেন। তিনি পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো সরকারকে আহমেদিয়া সম্প্রদায়কে অমু্সলিম ঘোষণা করার জন্য চাপ দেন। মাওলানা মওদুদী সারা পশ্চিম পাকিস্তানে সুন্নি মুসলিম এবং আহমেদিয়া এর মাঝে রক্তাক্ত দাঙ্গা বাধিয়ে দেন। দুই হাজার আহমেদিয়া মারা যায় শুধু মাত্র পাঞ্জাব প্রদেশে। সারা দেশে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড জন্য তাকে পাকিস্তানের মিলিটারি কোর্ট মৃত্যুদন্ড দেয়। কিন্তু পরে সেটা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় এবং দুই বছর পড়ে তাকে ১৯৫৫ সালে জেল থেকে মুক্ত করা হয়। এত বড় গনহত্যার বীচ বপনকারী এবং উস্কানি দেওয়ার পড়ো এভাবে কোন শাস্তি না পেয়ে ছাড়া পেয়ে যাওয়া পৃথিবীর ইতিহাসের এক নজীর বিহীন ঘটনা।(২)

১৯৭০ -র সাধারণ পরিষদ নির্বাচন
পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন ০৭ ডিসেম্বর, ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত হয়। কট্টর মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামী এর জন্য ছিল এটা একটা বিরাট পরীক্ষা। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এর চরম ভরাডুবি হয়। সারা পাকিস্তানে মোট ভোটের মাত্র ৪% পায়। জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে জামাত পাঞ্জাব প্রদেশে একটি, সিন্দ প্রদেশে দুটি, পেশাওয়ারে একটি আসন পায় সহ পায় মাত্র ৪টি আসন পায় ।

অপর দিকে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে পায় ১৬৭টি আসন। । জামায়াতে ইসলামী সারা পাকিস্তানের মোট ভোটারের ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ৭৫% জনগণ আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছিল। মাত্র ৬% জনগণ জামায়াতে ইসলামী কে ভোট দিয়েছিল। (৩)

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে দেবার পাঁয়তারা করল। বঙ্গবন্ধু সাত ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাংলার মানুষের সামনে গর্জে উঠলেন ‘ এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ’। সারা বাংলার ৭ কোটি মানুষ মুক্তি আন্দোলন ঝাঁপিয়ে পরল।

একজন মানুষ এই বাংলাকে কি পরিমাণ ভালবাসে নিজের পরিণতি নিশ্চিত মৃত্যুদন্ড জেনেও বাংলার কোটি কোটি জনগনকে মুক্তি উল্লাসে জাগিয়ে দিলেন । মাত্র ১১ মিনিট একটা বক্তৃতা মনে হই আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বক্তৃতা। পাকিস্তানি হানাদাররা ২৫শে মার্চ গনহত্যা করল ঢাকা শহর আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। পরের দিন চট্রগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধু অনুপুস্থিতিতে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করল।

১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী এর ভুমিকা
মার্চ মাস থেকে শুরু হল জামায়াতে ইসলামী আসল খেলা। তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরী ( কুখ্যাত সাকা চৌধুরীর পিতা) পাকিস্তানী হানাদারদের সাহায্য করার জন্য প্রতিষ্ঠা করলেন শান্তি বাহিনী। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এর তাতে মন ভরল না। তারা চায় মানব ইতিহাসের সব থেকে বড় গন হত্যা । জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস্ প্রভৃতি বাহিনী গড়ে তোলেন। এরা পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে কাজ করে।

বর্তমান জামাতের অনেক শীর্ষ নেতা ছিল রাজাকার। ৩০ জুন লাহোরে সাংবাদিকদের কাছে গোলাম আযম বলেন, "তাঁর দল পূর্ব পাকিস্তানে দুস্কৃতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) তৎপরতা দমন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে এবং এ কারনেই দুস্কৃতকারীদের হাতে বহু জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে”। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি দলিলে সন্নিবেশিত তথ্য অনুযায়ী ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সব রকমের সহযোগিতা করতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দলীয় নেতাকর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন নিজামী। তাদের দালালি তথ্য প্রমাণ সেই সময়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এসেছে। এই নিজামী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হবার পর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরকে ভারতীয় হানাদার এবং ভারতীয় এজেন্ট বলে আখ্যায়িত করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে সব রাজাকার সেই সময় কোন না কোন সুবিধা নিয়েছে। তাদের ছিল সবুজ চাঁন তারা। মুখে পাকসারজমিনবাদ। রাজাকার- আল বদরদের মূল কাজ ছিল বের করা এলাকার কোন কোন বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে আছে, কার টাকা পয়সা আছে, এলাকার কোন কোন বাড়িতে হিন্দু থাকে, কোন বাড়ির ছেলে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছে, তালিকা করা আর পাকিস্তানী সেনাদের খবর দেওয়া। মুক্তিযুদ্ধে তীব্র হলে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী এই সব রাজাকারদের বাঙ্গালী নিধন জন্য দিয়েছে থ্রি নট থ্রি রাইফেল। লুঙ্গি উপর খাঁকি ইউনিফর্ম পরে তারা পাকি হানাদারদের জন্য সব ধরনের সহায়তা করত।

এরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমাদের মা বোনকে ধরে পাকিস্থানী ভোগের জন্য ব্যাঙ্কারে নিয়ে আসত। পাকি সেনারা ফুর্তি করত, তারা বাইরে পাহারা দেয়- আর অপেক্ষায় থাকে যদি তাদের একটু ঝুটা জুটে। হাজার হোক মালে গনিমত! শত্রু সম্পত্তি নাকি ইসলামে জায়েজ আছে! লাখ লাখ বাঙ্গালী বীরাঙ্গনা তাদের দালালিতে সম্ভ্রম হারিয়েছেন। লাখ খানেক যুদ্ধশিশুকে মুক্তিযুদ্ধের পর বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তাদের অনেকেই ফিরে এখন মাকে খোঁজে। কিন্তু কে স্বীকার করবে সেই অপমান! (৪)(৫)

স্বাধীন বাংলাদেশ
৩০ লাখ মুক্তিসেনার রক্তে ১০ লাখ বীরাঙ্গনা চোখের জলে প্রতিবেশী দেশ ভারতীয় সহায়তায় অবশেষে আমরা পেলাম বাংলাদেশ। ১০ ই জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে ফিরে এলেন। আমাদের পূর্ব পুরুষদের চোখে তখন কত স্বপ্ন। মুক্ত বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশ। আমাদের নিজের একটা দেশ। ৩০ নভেম্বর ৭৩ সালে কুখ্যাত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা আগে মাত্র একজন রাজাকারে ফাঁসি হয়।

একাত্তরের পর জামাতদের গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী সহ অনেক নেতা এর পর প্রাণ ভয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যায়।

স্বাধীন বাংলাদেশে জামাতের জন্ম
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ ছিল। ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান সংবিধান সংশোধন এনে ছাড়পত্র দিলেন আইডিএফকে। ইসলামীক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের ব্যানারে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীনতা বিরোধিতারা একে একে আত্মপ্রকাশ করল। গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী, আব্বাস আলী খান মিলে প্রতিষ্ঠা করল বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী।

স্বাধীনতার পর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মুক্তিযোদ্ধা জিয়া ক্ষমতা মোহে পড়ে কত পরিবর্তন হয়ে গেলেন। যেই খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টে পাক বাহিনী হেফাজতে ছিলেন বলে তাকে ঘরে তুলতে জোর আপত্তি ছিল মেজর জিয়ার। জিয়াউর রহমান একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তারপর তার গোঁড়ামি জন্য একজন বীরাঙ্গনাকে সংসারে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিজের মেয়ে বলে চাপ দিয়ে জিয়ার মত বদলান। অথচ সেই মুক্তিযোদ্ধা জিয়াই জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করলেন।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা বিরোধী জামাতকে মেনে নিতে পারে নাই। গোলাম আজম নামাজ পড়তে গেলে বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের জুতাপেটা খান, মতিউর রহমান নিজামীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুতাপেটা খান, জাহাঙ্গিরনগরে থু থু খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রসংঘ (পরবর্তীতে ছাত্র শিবির) কর্মী পেলে অপরাজেয় বাংলার সামনে কানে ধরে উঠবস করতে বাধ্য করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বছর প্রকাশ্য মিছিল করতে পারে নি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামাতের ক্রমবিকাশ
আমাদের দেশে চরম ডান জামাতে ইসলামী বা চরম বাম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা তাদের সমমনা দলগুলোর মধ্যে একটা দারুণ মিল আছে। চরম বাম আর ডান দলগুলো খুবই সুশৃঙ্খল এবং সংগঠিত হয়, সেই সঙ্গে আদর্শের ব্যাপারে আপোষহীন। এরা একটা নির্দিষ্ট আদর্শে বিশ্বাস করে থাকে সে থেকে এরা এক চুলও নড়ে না। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বা জাতীয় পার্টির মতো দলগুলো নেতারা যেমন সুবিধা পাবার জন্য নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে অবলীলা ফুলের মালা নিয়ে অন্য দলে যোগ দিতে পারে। জামাত থেকে তা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি একবার জামাতে ইসলামী নেতা বনে যায় সে তার বাকি জীবন জামাতের নেতা হয়েই থাকবে। এ কারণেই তাদের কর্মী, সমর্থক একেবারে অঙ্কের মতো হিসেব করা- এক চুলও এদিক ওদিক হয় না।

বাংলাদেশে প্রথম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতে ইসলামী এর দিন দিন ক্রমবৃদ্ধি রীতিমত আশঙ্কাজনক। ১৯৮৬ সালে জামাতে ইসলামী একটি ছোট দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু তারপরও জামাত ৮৬ সালে ১০টি আসন পেয়ে সবাইকে চমকে দেয়। ৯১ সালের নির্বাচনে জামাতে ইসলামী পায় ১৮টি আসন।

নব্বই দশকের মাঝা মাঝি পর্যন্ত জামাতে ইসলামী আমির গোলাম আযম ছিল পাকিস্তানের নাগরিক। তারপরো গোলাম আযম স্বাধীন বাংলাদেশের একটি রাজনৈতীক দল জামাতে ইসলামী এর কর্নধার ছিলেন। ভিন দেশী পাসপোর্ট নিয়ে অন্য আরেকটি দেশের রাজনৈতীক দলের প্রধান। জামাত বিশ্বের অনন্য নজ়ীর স্থাপন করেছেন।

জনতার আদালত এবং গোলাম আজম
খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তিনি জামাতের অসত রাজনীতি, রাজনীতিবিদ ও তোষামোদকারীদের দু হাত তুলে সাহায্য করলেন। গোলাম আজম এর নাগরিকতা দিলেন ১৯৯৪ সালে। যখন সারা দেশ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে উনি পুলিস বাহিনী দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের লাঠি চার্য করালেন। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি জনতার মঞ্চ থেকে প্রথম বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের কথা বললেন। খালেদা জিয়া তার সকল শক্তি দিয়ে জামাতের পাসে এসে দাঁড়ালেন। সাধারণ মানুষ যেন জনতার মঞ্চে যেতে না পারে তাই পথে পথে বাধা দিলেন। সেই সময় বাংলাদেশে এত টিভি চ্যানেল ছিল না। ছিল মাত্র বিটিভি। সেখানে উত্তম সুচিত্রা অভিনীত ‘পথে হল দেরি’ বাংলা ছবি দেখালেন । কিন্তু পথে দেরি হয় নি। লাখ লাখ মানুষ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার আদালতে গোলাম আজম এর ফাঁসী রায় দিয়ে ছিল।

ইসলামী ছাত্র শিবিরের কুকর্ম
জামাতের ছাত্র সংগঠন হচ্ছে ইসলামী ছাত্র শিবির। জামাত ছাত্র শিবির ইসলামের দোহাই দিয়ে আর মুখোশ পড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের ক্যাডারদের ঢোকাচ্ছে তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় । এখানে শিবিরের সন্ত্রাসের চিত্র পত্রিকা খুললেই দেখা যাবে।

তার পাশাপাশি পরিকল্পিত ভাবে এখানে জামাত শিবিরের ক্যাডারের শিক্ষকরা স্থান করে নিচ্ছে। ছাত্র শিবির অত্যাচারে ছাত্রদলও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিল করে। ছাত্র শিবির আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে আমাদের ক্যাম্পাস রগকাটার নানা রকম টেকনিক বের করছে। তাদের রগ কাটার অনেকগুলো লোমহর্ষ ঘটনা আমরা জানি । শিবির আমাদের চট্রগ্রাম চট্রগ্রাম কলেজ আর হাজি মোহাম্মদ মহসিন কলেজ দখল করে রেখেছে। সিটি কলেজ আর কমার্স কলেজ দখল করার পায়তারা চলছে ।

চার-দলীয় ঐক্য জোট গঠন
জামায়াতে ইসলামী হলো সুযোগ সন্ধানী। তারা সুযোগের ব্যবহার করবে এটা স্বাভাবিক একটি ঘটনা। জামায়াতে ইসলামী তাই ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ঐক্য জোট মিলিত হয়ে চার-দলীয় ঐক্য জোট গঠন করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি- জামাত জ়োট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে নির্বাচিত হয়। ১৯৯৬ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মাত্র ৩টি আসনে জয়লাভ করলেও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন লাভ করে। বাংলাদেশ সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে তাদের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি দেশ হবার মাত্র এক দশক যেতে না যেতে দেশের শাসন ভার গ্রহণ করে।

চার দলের সরকারে জামায়াতে ইসলামী আমির মতিউর রহমান নিজামী পায় শিল্পমন্ত্রী , আলি আহসান মুজাহিদ পান সমাজকল্যান মন্ত্রী। এই দুই মন্ত্রী সরকারী গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে চলত। বুকের রক্ত দিয়ে অর্জন করা লাল সবুজ পতাকার কি অপমান । এই পতাকা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতেও তাদের হাত এতটুকু কাঁপবে না।

বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ সৃষ্টিতে জামাতের ভূমিকা
বাংলাদেশে ইসলামের নামে প্রকাশ্যে জঙ্গিবাদের সুরু ২০০৩ সাল থেকে। জামায়াতে ইসলামী ছাএ সংগঠন তৈরি করছে ভবিষ্যত জেহাদী। সারাদেশে এক যোগে বোমা হামলা চালিয়ে শোর ফেলে দেওয়া তথাকথিত ইসলামপন্থী দলগুলো যেমন জেএমবি নিঃসন্দেহে এ তালিকায় ওপরে। কিন্তু বেশ কজন জঙ্গী ধরা পড়ার পর 'আগে শিবির বা জামাত করতাম' জাতীয় স্বীকারোক্তি দেওয়ায় এটা মোটামুটি পরিষ্কার জামাত-শিবির তাদের ক্যাডার বাহিনী আর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত করেছে।

সিলেটের মাজারে কারা বোমা মারছে? আমাদের দেশে কারা মাজার দেখতে পারে না ? রমনার বটমুলে কারা বোমা মারছে? কারা আমাদের বাংলা নববর্ষ পালন করার সাংষ্কতি পছন্দ করে না? উদীচী কারা দেখতে পারে না? শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে করে কারা বোমা মেরেছে? আইভি রহমান, শাহ এস এম কিবরিয়া, আহসানুল্লাহ মাস্টারদের কে হত্যা করছে? বাংলাদেশে কারা আওয়ামী লীগকে দেখতে পারে না? এর প্রতিটা উত্তর নিজের বিবেকের কাছে করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়।
জামায়াতে ইসলামী চার দলের ঘাড়ে চড়ে ধর্মের নামে সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে মস্তিস্কবিহীন জলহস্তীদের উপলদ্ধি করার সময় হয়তো এখনও হয়নি।


২৮শে অক্টোবর সেই দিন
২৮ ই অক্টোবর ২০০৬ হল মুক্তাঙ্গনে জামাত আর ১৪ দলের মধ্য কি হয়েছে এটা ত আমরা সবাই জানি। অনেক আগে ১৪ দলের ডাকা সমাবেশের একই দিনে, একই সময়ে,একই পল্টন ময়দানে জামাত কেন সমাবেশ দিল? সেদিন সকালে তারা রাস্তার মোড়ে, মোড়ে অস্ত্র, বন্দুক নিয়ে কেন অবস্থান নিল? কীভাবে বন্দুক নিয়ে গুলি করা হল। শিবির নেতার সেই চিৎকার করে বলা ‘বন্ধুরা তোমরা বৃষ্টির মত গুলি বষর্ন কর, তোমরা মরলে শহিদ বাঁচলে গাজী “। জামাত সেদিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম দখল করে সেখান থেকে নিরীহ মানুষদের গুলি করে হত্যা করেছে। সাধারণ মুসুল্লিদের নামাজ পরতে দেয় নাই। ইমামকে আজান দিতে দেয় নাই। এদের আসল কাজ হল কীভাবে ইসলামকে ছোট করা যায়। এরাই তারা যারা একাত্তুরে মসজিদে ঢুকে পবিএ কোরান শরিফ পরা অবস্থায় মুসল্লিদের গুলি করে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে।

জামায়াতে ইসলামী এর স্পর্ধা
জামাতিদের এত বড় সাহস যে তারা কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক , শাহবিয়ার কবির বা মহাম্মদ জাফর ইকবালদের মত মানুষদের মুরতাদ ঘোষণা করেন। ওদের বিরুদ্ধে কিছু বললে মুরতাদ আর তাদের সাপোর্ট করলে সাচ্চা মুসলমান।

আজ ৩৭ বছর পরেও জামায়াতে ইসলামী কখনো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং গনহত্যা করার জন্য ক্ষমা চায় নি। ২৫ অক্টোবর ২০০৭ জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ সাংবাদিকদের বলেন “বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই, এটা কল্পনা প্রসূত, বানোয়াট, উদ্ভট চিন্তা”

আসন্ন ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামাত
বিশ্বের প্রথম ভাষাভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ রাস্ট্রব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ করলেও আজ ধর্মভিত্তিক অপশক্তির কাছে হার মেনেছে এর থেকে দুঃখকর অপমান আর কি আছে?

আসন্ন নির্বাচনের জামায়াতে ইসলামী দেশের ৪০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। এরা হলেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী (পাবনা-১), সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (ফরিদপুর-৩), মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (শেরপুর-১), এ টি এম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২), মাওলানা মোহাম্মদ সুবহান (পাবনা-৫), মীর কাসেম আলী (ঢাকা ৮), দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (পিরোজপুর-১), আবু সালেহ মোহাম্মদ আবদুল আজিজ মিয়া (গাইবান্ধা-১), মোহাম্মদ আবদুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), এম রিয়াসত আলী বিশ্বাস (সাতক্ষীরা-৩), শাহ্ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস (খুলনা-৬), মাওলানা আবদুল হাকিম। (ঠাকুরগাঁও-২), মাওলানা হাবিবুর রহমান (চুয়াডাঙ্গা-২), ফরিদউদ্দিন চৌধুরী (সিলেট-৫), হাবীবুর রহমান (সিলেট-৬) এবং এনামুল হক মঞ্জু (কক্সবাজার-১)। এরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত। (৬)

আসুন এই মহান বিজয় মাসে আমরা আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াতে ইসলামী প্রতিহত করি। দেশের যে কয়টি আসনে তারা নির্বাচনে লড়ছে সেখানেই তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করার জন্য যে যার অবস্থান থেকে কাজ করি। যেখানেই জামাত সেখানেই লড়াই।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই
যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী একই সাথে আমার মায়ের খুনী এবং হত্যাকারী। যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা আমার কাছে স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে স্বাধীন দেশটার সাথে বেঈমানী করার মতো। আমরা এই প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই।

জামাতের কাছে জানতে চাই ইসলামে কোথায় হত্যা, ধর্ষণ উৎসাহিত করা হয়েছে। সেরা ধর্মে জন্ম নিয়ে জামাতীরা ইসলামকে বদনাম করল। আল্লাহ সারা দুনিয়া শ্রেষ্ঠ প্রাণী করে আমাদের পাঠাল কিন্তু জামাতিরা সেই জীব মানুষ না পশু আমার জানতে ইচ্ছা করে।

ক্ষমা করে মানুষ নাকি মহানুভব হয়। ওদের অনেকের নাকি এদেশী জন্ম । ভুল ত মানুষই করে। আমি এই সব সস্তা কথা আমি মানি না। ক্ষমা মহান গুন হতে পারে, কিন্তু সবাইকে এবং সব অপরাধী ক্ষমা করা যায় না।

যে আমার সাথে বেইমানি করে তাকে আমি হয়ত দুই দিন পরে মাপ করে দিতে পারব কিন্তু যে আমার আমার দেশের সাথে বেইমানি করে করে , যে আমার মায়ের সম্ভ্রমহানি করে, যে আমার ভায়ের রক্তে তার দুই হাত রঙ্গিন করে , যে আমার বোনের শাড়ি ধরে টান দেয়, তাদের কোন মাপ নাই। এই দুনিয়ার মানুষেরা তাদের ক্ষমা করে দিলেও আল্লাহ তাদের কোন দিন যেন ক্ষমা না করেন।

তথ্যসূত্র
(১) http://en.wikipedia.org/wiki/Sayyid_Abul_Ala_Maududi
(২) http://en.wikipedia.org/wiki/Jamaat-e-Islami
(৩) http://en.wikipedia.org/wiki/Pakistani_general_election,_1970
(৪) অমি রহমান পিয়াল এর ব্লগ http://www.somewhereinblog.net/blog/omipialblog
(৫) http://www.genocidebangladesh.org/
(৬) দৈনিক প্রথম আলো ডিসেম্বর ০৬, ২০০৮

8 টি মন্তব্য

Pallab বলেছেন... @ 25/12/08

অনেক কিছু নতুন জানতে পারলাম তোমার এই ব্লগ থেকে। ভারত পাকিস্তানের ভাগ হওয়ার বিরোধিতা করা অবশ্যই ইসলামিক দল হিসাবে প্রশংসার যোগ্য ছিল। কিন্তু ঐ যে, যেটা তোমার লেখা এবং আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট যে জামাতে ইসলামের ইতিহাসে ধর্মের চেয়ে ধর্মের নামে সুযোগের সদ্বব্যবহার করার নজিরই বেশী, সেটাই মূল বিবেচ্য বিষয়। শুধু যে দেশের মানুষের সাথেই বেঈমানী করা হচ্ছে তা না, একই সাথে ধর্মের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন করা হচ্ছে।

আশা করবো এবারের ভোটে জনগন ধর্মের নামে নিজ স্বার্থবাদী সব দলকেই পুরোপুরি বয়কট করবে।

বিপ্রতীপ বলেছেন... @ 25/12/08

চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী লেখা। যারা ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনীতি করতে চায় তাদেরকে ঘৃণা করি...

Mahbub বলেছেন... @ 25/12/08

জামাত শিবির নিপাত যাক।
ঠাকুরগাঁও ২ আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমান একজ চিহ্নিত রাজাকার ও শান্তিকমিটির নেতা। পরাজয় নিশ্চিত তার তবে লক্ষ্য করার বিষয় এই লোক বছরের পর বছর কিভাবে রাজনীতি করে আসছে যেখানে তার বেঁচে থাকার অধিকারই নেই।
পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো। নতুন করে অজানা কিছু জানতে পারলাম।

পার্থ সারথি পাল, কোলকাতা, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত বলেছেন... @ 25/12/08

তুমি এইসব লিখেছো কোন আস্পর্ধা থেকে? জানো, তোমাকেও মুর্তাদ ঘোষণা করা হতে পারে..
যাই হোক, অনেক কিছুই তুমি জানো এবং সেগুলো জানানোর ক্ষমতা রাখো.. এই প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশীকেই দেখি, যারা এই ইতিহাস গুলো জানে না, বা তাদের জানতে দেওয়া হয়নি.. অথবা জেনে থাকলেও উটের মত মরুঝড়ের ভয়ে বালিতে মুখ গুঁজে রাখে..
এই লেখার সৎসাহসের জন্য তোমাকে সাধুবাদ জানাই।

মিটুল বলেছেন... @ 29/12/08

জামায়াত-কে যারা সমর্থন করে তার দোযখে যাবে...............
কোরআন-এ আছে ইসলাম পালনে ৭৩টি ভাগ হবে যার ৭২টি-ই দোযখে যাবে। বর্তমানে আমাদের ইসলাম প্রচারে অনেকগুলি দল মত সমাজে দেখা যাচ্ছে। অথচ মূলদল ১টি হওয়া উচিৎ। সুতরাং এরাই সেই ৭২ দল। অপর দিকে আল্লাহ বলেছেন সব ধরণের পাপ ক্ষমা হতে পারে কিন্তু কয়েকটি পাপ মোটেও ক্ষমা করা হবে না। যার মধ্যে শিরক একটি। শিরক হচ্ছে সেই জিনিস যা আল্লাহর সাথে অন্য কোন শক্তি কে তার সমপরিমান বা বেশী শক্তি মনে করে। যেহেতু জামায়েত-ই ইসলামী দলটি প্রকাশ্য ইলামী আন্দোলনের কৌশল হিসাবে ঘোষণা করছে যে, ক্ষমতায় আসীন না হলে এদেশটি ইসলামী আদর্শে পরিণত করা যাচ্ছে না। সুতরাং এটি এক প্রকার শিরক যে, সরকার গঠন প্রক্রিয়াকে একটি আলাদা শক্তি মনে করছে যে ইসালম পালনে অপরিহার্য। অথচ আল্লাহ চাইলে সরকার গঠন নামক সাহায্য ছাড়াই আমাদের দিয়ে ইসলাম ধর্ম পালনের সব ব্যব্সথা করতে পারেন এই বিশ্বাস রাখা উচিৎ। যেমন তাবলীগ জামায়েতের বৈশিষ্ট্য-ই ধরা যাক। তারা বলছেন ক্ষমতায় আসীন নয় মানুষকে নামাজের পথে ডাকতে হবে অন্যান্য ইবাদতের পথে ডাকতে হবে আর আল্লাহ চাইলে তার হেদায়েত করবেন। সুতরাং সকল ক্ষমতা আল্লাহর।

M বলেছেন... @ 26/2/09

নমস্কার। কেমন আছেন? আমি আপনার এই ব্লগ দেখে খুবই খুশি এবং অনুপ্রেরিত হয়েছি। আমারও একটা বাংলা ব্লগ আছে। এই ব্লগ design নিয়ে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল। আপনি কি সাহায্য করতে পারবেন? আমার এই কটি প্রশ্নঃ

১/ আমি বাংলায় সময় এবং তারিখ কিভাবে লিখবো? আপনার ব্লগে যেমনভাবে আসছে, আমিও তাই করতে চাই।
২/ চিরলিঙ্ক, খুঁজুন, আমার সম্পর্কে – এই সব কিভাবে বাংলায় করবো?
৩/ সংগ্রহশালা তে সব মাসের নাম কিভাবে বাংলায় হলো?

দয়া করে আমায় পথ দেখান...

M বলেছেন... @ 26/2/09

এখানে মন্তব্য পোস্ট করুন কথাটা কিভাবে বাংলায় হল?

শহীদুল ইসলাম মুকুল বলেছেন... @ 20/10/09

ঘটনা কী? আপনারে ম্যালা দিন দেখি না ! কী নিয়া ব্যস্ত ?

- মুকুল

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন